শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

মারা যাওয়ার ২৫ দিন পর দেশে ফিরল ইরাক প্রবাসী রেজাউলের মরদেহ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মৃগমারী গ্রামের রহিম হুজুরের ছেলে রেজাউল ইসলাম (৩০) আট বছর আগে পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ইরাকে। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য গড়ে তুলেছিলেন স্বপ্নের বাড়ি। দেশে ফেরার কথা ছিল খুব শিগগিরই, বাড়িতে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতিও। কিন্তু সেই ফেরাটা হলো কফিনবন্দি হয়ে।

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আল মনসুর এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করার সময় গত ৯ আগস্ট বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ হারান রেজাউল। মৃত্যুর ২৫ দিন পর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তার মরদেহ পৌঁছায় নিজ বাড়িতে।

এর আগে, বুধবার দিনগত রাতে ইরাক থেকে একটি ফ্লাইটে রেজাউলের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে সেটি নিয়ে স্বজনরা রওনা হন চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে।

দুপুরে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শেষবারের মতো রেজাউলকে এক নজর দেখতে বাড়িতে ছুটে আসেন প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা।

পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে আট বছর আগে বিদেশে গিয়েছিলেন রেজাউল। প্রবাসে উপার্জন করা অর্থ দিয়ে তৈরি করেছিলেন একটি বিলাসবহুল বাড়ি। সেই বাড়িতেই এবার আনন্দের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল পরিবার; শিগগিরই দেশে ফিরে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল তার।

কিন্তু বিয়ের সেই আয়োজন আর হলো না। একটি আকস্মিক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ মুহূর্তেই বদলে দিল রেজাউল ও তার পরিবারের সব স্বপ্ন। দীর্ঘ ২৫ দিনের অপেক্ষা শেষে দেশে ফিরলেন তিনি, তবে জীবিত নয়, নিথর মরদেহ হয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *