সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

নতুন শ্রমবাজারে নজর, প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি

বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য নতুন শ্রমবাজার খোঁজা, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেছে সরকার। শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে।

‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ নামে ৩৬ সদস্যের এই কমিটি গঠন করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রীকে কমিটির সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

কমিটিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, অর্থ, পরিকল্পনা, স্বরাষ্ট্র, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, সমাজকল্যাণ, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা থাকছেন। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীও সদস্য হয়েছেন।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পররাষ্ট্র, পরিকল্পনা, সমাজকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, স্থানীয় সরকার, প্রবাসী কল্যাণ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা, বাণিজ্য, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবরা কমিটির সদস্য।

চাহিদা অনুযায়ী খোঁজা হবে নতুন বাজার
প্রজ্ঞাপনে কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে গন্তব্য দেশগুলোর শ্রমবাজারের চাহিদা ও নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান বিশ্লেষণ করে লক্ষ্যভিত্তিক নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যয় কমানোর সুবিধা তৈরির বিষয়েও কাজ করবে কমিটি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে যেসব পরিবর্তন আসছে, সেগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে। পরিবেশবান্ধব ও দক্ষ কর্মীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সুযোগ বাড়াতে সবুজ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিবাসীদের অধিকার ও পুনর্বাসনে নজর
অভিবাসী নারী ও পুরুষ কর্মীদের অধিকার রক্ষা এবং শ্রম অভিবাসনকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও সহযোগিতার বিষয়ে নির্দেশনা দেবে স্টিয়ারিং কমিটি।

বিদেশফেরত কর্মীদের মনোসামাজিক সুরক্ষা এবং সামাজিক ও পেশাগত পুনর্বাসনের জন্য ‘প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মী পুনঃএকত্রীকরণ নীতি, ২০২৫’ বাস্তবায়নের বিষয়েও কাজ করা হবে।

স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের, বিশেষ করে নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতি তাদের অবদান অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধন তৈরিতেও কমিটি সহায়তা করবে।

পেনশন ও বিমা কার্যক্রমও তদারকি
বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাস’ সর্বজনীন পেনশন স্কিম এবং প্রবাসীদের জন্য চালু করা বিমা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বও রয়েছে কমিটির।

শ্রম অভিবাসনসংক্রান্ত নীতি ও সংস্কারের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, এর বিভিন্ন উইং, বিভাগ, সংস্থা, তহবিল ও ব্যাংককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, নির্দেশনা ও সহায়তা দেওয়ার কাজও করবে তারা।

সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের সংগঠন এবং নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য অভিন্ন পদ্ধতি নির্ধারণের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও কার্যকর শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও কাজ করবে কমিটি।

এ ছাড়া ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন’ বা জিসিএমের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ বাস্তবায়নের কার্যক্রম তদারকি করবে স্টিয়ারিং কমিটি।

বছরে অন্তত একবার বৈঠক
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক বছরে অন্তত একবার অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় শ্রম অভিবাসন ফোরাম ও স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের মধ্যবর্তী সময় ছয় মাসের বেশি হবে না।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ে কমিটির দায়িত্ব পালনে সহায়তা এবং জাতীয় শ্রম অভিবাসন ফোরামসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।

প্রয়োজন অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বায়রা, সিভিল সোসাইটি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো যাবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, কমিটিতে ‘সচিব’ বলতে সিনিয়র সচিবকেও বোঝাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *