সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

মরিয়মের মৃত্যু: এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রীকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আদালতে হাজির করা হয়েছে। ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে নেওয়া হয়। পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। হাজতখানার ইনচার্জ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোর্শেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলাটি করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। এ বিয়েতে ওবায়দুর রহমান প্রত্যক্ষভাবে প্ররোচনা দিয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলাম তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম এবং প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে নিয়ে শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, বিয়ের পর থেকে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বাসায় অনেক লোকজন জড়ো হয়েছেন। পরে পুলিশের সহায়তায় একটি কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেয়েকে ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহ উদ্ধারের সময় বিছানার ওপর মরিয়মের লেখা একটি সুসাইড নোট পাওয়ার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং তাদের প্ররোচনার কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।

আগের মামলায় জামিনে ছিলেন এমপি
মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামের গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। ভিডিও ফাঁসের সন্দেহ এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয় ওই মামলায়।

ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান। তবে মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার নতুন মামলায় এবার ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।

দল থেকে বহিষ্কার
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার পর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হয়।

এদিকে, মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। আদালতে এ আবেদনের পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *