বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

ফ্লাইট সংকটে প্রবাসীদের চাকরি-ভিসা রক্ষায় সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ চান জামায়াত আমির

সৌদি আরবগামী ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো যাত্রী ও প্রবাসী কর্মী। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারলে চাকরি, ভিসা ও নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে শুধু যাত্রীদের যাতায়াত নিশ্চিত করা নয়, তাদের কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষায়ও সরকারকে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্ট্যাটাসে জামায়াত আমিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধ ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৩৬টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৫০টি। এতে ১৩ হাজার ৪৯০ জন যাত্রী ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর বাংলাদেশ-সৌদি আরব রুটে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ৬১টি ফ্লাইট সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, অন্যগুলোর চলাচল স্থগিত রয়েছে। তার স্ট্যাটাসে বলা হয়, ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।

চাকরি হারানো ও ভিসার জটিলতার আশঙ্কা
জামায়াত আমিরের মতে, ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের কারণে সৌদি আরবে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারলে তাদের চাকরির সুযোগ হারানো, নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তিগত জটিলতা এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ভিসার মেয়াদ ও নিয়োগসংক্রান্ত শর্ত নিয়েও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, এই সংকটকে কেবল যাতায়াতের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে বহু পরিবারের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে।

কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বিকল্প যাত্রার প্রস্তাব
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।

বিশেষ করে চাকরির জন্য সৌদি আরবে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মীদের কর্মসংস্থান, ভিসা ও নিয়োগসংক্রান্ত অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রয়োজনে নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মীদের কর্মস্থলে যোগদানের সময়সীমা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার কথাও বলেন।

একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বিকল্প বিমানবন্দর বা রুট দিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পাঠানোর সম্ভাবনা যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন জামায়াত আমির। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিকল্প ফ্লাইট, পুনরায় টিকিট বুকিং এবং প্রয়োজনীয় যাত্রাসহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।

সিদ্ধান্তে দেরি হলে ক্ষতি বাড়তে পারে
স্ট্যাটাসে ডা. শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেন, সংকট মোকাবিলায় অবহেলা কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অযৌক্তিক বিলম্ব যাত্রী ও তাদের পরিবারের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থান এবং তাদের পাঠানো বৈদেশিক আয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সরকারের প্রতি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সৌদিগামী যাত্রী ও প্রবাসী কর্মীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের চাকরি, ভিসা ও অন্যান্য স্বার্থ সুরক্ষায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *