সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ, মিলবে স্থানীয়দের সমান আইনি সুরক্ষা

প্রবাসীদের বিমানবন্দরে লাগেজ পরিবহন সহজ করতে দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০০টি ট্রলি সরবরাহ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান কর্মসূচি চালুর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। নতুন ব্যবস্থায় কর্মীদের আইনি সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে কাজের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহনের জন্য ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

তিন বিমানবন্দরে ২০০ ট্রলি
প্রবাসীদের লাগেজ ও মালামাল বহনের সুবিধার্থে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলিগুলো সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫০টি ট্রলি হস্তান্তর করা হয়। এর আগে চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৫টি করে ট্রলি দেওয়া হয়েছে।

এ উদ্যোগের লক্ষ্য বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের মালামাল পরিবহন সহজ করা। তবে ট্রলিগুলো কীভাবে ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে এবং যাত্রীদের জন্য সেগুলোর পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

জাপানে কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসূচি
জাপানে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রচলিত ‘টেকনিক্যাল ইন্টার্নশিপ’ পদ্ধতির পরিবর্তে ‘এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ (ইএসডিপি) চালুর কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, তুলনামূলক ভালো বেতন এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদে কাজ ও বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে।

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

বিশেষ করে, গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী বিদেশি কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা তাঁদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না বলে চুক্তির সুবিধাগুলো তুলে ধরেন মন্ত্রী। এ কারণে জোর করে দেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যতামূলক বিধানও চুক্তিতে রাখা হয়নি বলে জানান তিনি।

তবে নতুন কর্মসূচি কবে থেকে কার্যকর হবে, কোন খাতে কতজন বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং বেতন ও দীর্ঘমেয়াদি কাজের সুযোগ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি মন্ত্রী।

সৌদিতে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ ফেরানোর উদ্যোগ
সৌদি আরবে নিহত দুই বাংলাদেশির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, তাদের একজন অভিবাসী শ্রমিক এবং অন্যজন ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তাদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়, অন্যজনের বাড়ি কুমিল্লায়।

আকাশপথের যোগাযোগ ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তাদের মরদেহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানান তিনি।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সৌদির কাছে তথ্য চাওয়া
সৌদি আরবে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়েও কথা বলেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী। তিনি জানান, ঘটনার সঠিক তথ্য জানতে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠির জবাব পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিক কী কী তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং জবাব কবে পাওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাননি মন্ত্রী।

ট্রলি সরবরাহ থেকে শুরু করে জাপানে নতুন কর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং সৌদিতে নিহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য, সব ক্ষেত্রেই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ঘোষিত উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন। বিশেষ করে জাপানে কর্মীদের সুরক্ষা ও বেতনের সুবিধা কীভাবে নিশ্চিত হবে এবং সৌদি আরবের ঘটনাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য কবে পাওয়া যাবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদসহ মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *