দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে দেশটির তিনটি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ সরকার। বিদেশি মৌসুমি কর্মী কর্মসূচির আওতায় আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারী অঞ্চলের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় কৃষি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক ২১ ও ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে চংজু সিটি, উমসং কাউন্টি ও গাংহওয়া কাউন্টির মেয়রদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে কৃষি খাতের শ্রমিকের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ বাড়ানোসহ দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
কৃষি খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারী অঞ্চলের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
গাংহওয়া কাউন্টির কর্মকর্তারা বাংলাদেশি মৌসুমি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করতে স্থানীয় কৃষি নিয়োগকর্তাদের কাছে বাংলাদেশের কর্মীদের ইতিবাচক দিক তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে দেশটির কৃষি খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগের সম্ভাবনা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ইপিএসের আওতায় কর্মী পাঠানো নিয়েও আলোচনা
কৃষি খাতের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার বিদ্যমান শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। সফরের অংশ হিসেবে তিনি দেশটির মানবসম্পদ উন্নয়ন সংস্থা হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট কোরিয়ার (HRD Korea) সভাপতি লি বিয়ং-হুনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
বৈঠকে এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (EPS) আওতায় দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার, নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও গতিশীল করা এবং অপেক্ষমাণ বাংলাদেশি কর্মীদের কোটা পূরণ সাপেক্ষে সময়মতো দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে সরকার-টু-সরকার (G2G) নিয়োগব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানো এবং স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
শিল্পকারখানায় নতুন নিয়োগের সম্ভাবনা
দক্ষিণ কোরিয়ার বেসরকারি খাতেও বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যাটারি উপকরণ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান চুনবো (Chunbo) কোম্পানির কারখানা পরিদর্শন করেন।
প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১৩২ জন বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। পরিদর্শনকালে তাদের মধ্যে প্রায় ৩৫ জনের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় কর্মীদের কর্মপরিবেশ, অধিকার সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি।
চুনবো কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার প্রশংসা করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে। পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া উমসংয়ে অবস্থিত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অটোগি করপোরেশনের (Ottogi Corporation) দেপুং প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য উৎপাদন খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ
দক্ষিণ কোরিয়া সফরে সরকারি সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক এবং কারখানা পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষ করে কৃষি খাতে মৌসুমি কর্মী নিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি, ইপিএসের আওতায় অপেক্ষমাণ কর্মীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নতুন নিয়োগের সম্ভাবনা তৈরির বিষয়গুলো সফরে গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়েও নজর দেওয়া হয়েছে।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি ও শিল্প খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে নতুন নিয়োগের পরিমাণ ও সময়সীমা সম্পর্কে সফরসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।








