শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

২০৯ বাংলাদেশির ২৪৩ ভিসা আবেদন ঘিরে তদন্ত, কানাডায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কানাডার অস্থায়ী আবাসিক ভিসা পেতে মিথ্যা তথ্য ও জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা (সিবিএসএ)। কুইবেক ও অন্টারিও প্রদেশে ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের ২৪৩টি ভিসা আবেদনকে কেন্দ্র করে এ তদন্ত পরিচালিত হয়। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য আবেদনগুলোর মধ্যে ৭৯টি বেছে নিয়েছেন তদন্তকারীরা।

গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ সিবিএসএ এ মামলার তথ্য প্রকাশ করে। সংস্থাটির অভিযোগ, একটি চক্র কানাডার নাগরিকদের ভুলভাবে আবেদনকারীদের আতিথ্যদাতা হিসেবে দেখিয়ে মিথ্যা তথ্য ও জাল নথির মাধ্যমে অস্থায়ী আবাসিক ভিসা বা টেম্পোরারি রেসিডেন্ট ভিসা (টিআরভি) পাওয়ার চেষ্টা করেছিল।

মামলার পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে চারজন গত ২২ অক্টোবর কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। তারা হলেন রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে সিবিএসএ। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

২৪৩ আবেদনের মধ্যে ৭৯টি কেন তদন্তের কেন্দ্রে?
সিবিএসএর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের ব্যাপকতা ও জটিলতার কারণে তদন্তকারীরা ২৪৩টি ভিসা আবেদনের সবগুলো নিয়ে একইভাবে প্রমাণ উপস্থাপনের পরিবর্তে ৭৯টি আবেদন নির্বাচন করেন। সংস্থাটির দাবি, নির্বাচিত আবেদনগুলোতে অভিযোগের পক্ষে সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ রয়েছে।

তদন্তে মূলত আবেদনকারীদের আতিথ্যদাতা হিসেবে কানাডার নাগরিকদের পরিচয় ব্যবহার, আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য সিবিএসএর প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ নেই।

২০২৪ সালে শুরু, তদন্তে তল্লাশি ২০২৫ সালে
সিবিএসএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৩ জুলাই। ওই দিন কুইবেকের মার্সিয়ে শহরের একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে বসবাসকারীদের বিষয়ে নিয়মিত তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। তাদের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ছিলেন।

সেখানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্ট (আইআরপিএ) লঙ্ঘনের সম্ভাব্য প্রমাণ শনাক্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের আগস্টে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে সিবিএসএ।

তদন্তের পরবর্তী ধাপে ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওতে চারটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেন সংস্থাটির ফৌজদারি তদন্তকারীরা। ওই অভিযানে নথিপত্র ও কম্পিউটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এসব উপকরণের সঙ্গে পাঁচ অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সিবিএসএ।

যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে
পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কানাডায় অবৈধভাবে প্রবেশের ব্যবস্থা করতে ষড়যন্ত্র, অভিবাসন আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে পরামর্শ এবং আইআরপিএ লঙ্ঘনে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

কানাডার সংশ্লিষ্ট অভিবাসন আইনে অবৈধ প্রবেশের আয়োজন বা তাতে সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া কিংবা তথ্য গোপনে সহায়তা এবং আইন লঙ্ঘনে জেনেশুনে উৎসাহিত করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে মামলার অভিযোগ এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যে কিছু জানানো হয়নি।

অভিবাসন জালিয়াতি নিয়ে তদন্ত বাড়াচ্ছে কানাডা
সিবিএসএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের সন্দেহে ১৯১টি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছিল সংস্থাটি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আরও ৫৫টি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

অভিবাসন জালিয়াতির সন্দেহজনক ঘটনা সম্পর্কে তথ্য দিয়ে তদন্তে সহায়তা করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

২০৯ বাংলাদেশির ২৪৩টি ভিসা আবেদন ঘিরে এই মামলার পর কানাডার ভিসা প্রক্রিয়ায় নথিপত্রের সত্যতা ও আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্যের যথার্থতা আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে এই মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে সব আবেদনকারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত বলে বিবেচনা করার সুযোগ নেই; অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তিই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *