শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

কুয়েতে চার গাড়ির সংঘর্ষে বাংলাদেশি ডেলিভারি কর্মীর মৃত্যু

কুয়েতে মোটরসাইকেলে পণ্য সরবরাহ করতে গিয়ে আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর। দেশটির আদান এলাকায় চারটি গাড়ির সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ওই ডেলিভারি কর্মী। দুর্ঘটনায় একজন কুয়েতি নাগরিকও আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ডেলিভারি পেশায় নিয়োজিত প্রবাসীদের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

কুয়েতের ইংরেজি দৈনিক আরব টাইমসের ২৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদান এলাকায় চারটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা বাংলাদেশি ডেলিভারি কর্মী গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপারেশনস রুম থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

আহত বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে আদান হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় আহত কুয়েতি নাগরিককেও চিকিৎসা দেওয়া হয়। সংঘর্ষের প্রভাবে কাছের একটি বাড়ির সামনে পার্ক করে রাখা আরও দুটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চার গাড়ির সংঘর্ষ, তদন্তে যেসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ
একটি দুর্ঘটনায় চারটি চলন্ত গাড়ির পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেল আরোহীর প্রাণহানি এবং পার্ক করা দুটি গাড়ির ক্ষতি হয়েছে। তবে সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে, কোন গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলটির প্রথম ধাক্কা লাগে কিংবা দুর্ঘটনার জন্য কারও বেপরোয়া চালনা দায়ী কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

এ ছাড়া দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেল চালক হেলমেটসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করেছিলেন কি না, সেটিও জানা যায়নি। এসব তথ্য ছাড়া দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ বা দায় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

ডেলিভারি পেশায় প্রবাসীদের সড়কঝুঁকি
কুয়েতে ডেলিভারি খাতে কাজ করা প্রবাসীদের বড় একটি অংশ মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে তাদের দিনের বড় একটি সময় সড়কে কাটাতে হয়। ফলে ব্যস্ত সড়কে অন্য যানবাহনের সঙ্গে চলাচল, আকস্মিক লেন পরিবর্তন এবং সংঘর্ষের ঝুঁকির মুখে থাকতে হয় তাদের।

মোটরসাইকেল চালকের নিরাপত্তা চার চাকার যানবাহনের চালকের মতো সুরক্ষিত নয়। ফলে একাধিক গাড়ির সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহীর গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। হেলমেট ও অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারে আঘাতের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হলেও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপদ সড়কব্যবস্থা এবং যানবাহন চালকদের সতর্কতাও জরুরি।

তবে আদানের এই দুর্ঘটনায় কর্মঘণ্টা, ডেলিভারি সরবরাহের সময়সীমা কিংবা কাজের চাপ কোনোভাবে ভূমিকা রেখেছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার কারণ ও দায় এখনো স্পষ্ট নয়
একজন প্রবাসী কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট গাড়িচালকদের ভূমিকা এবং এ ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কুয়েতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল প্রকাশের পরই দুর্ঘটনার কারণ ও দায় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নিহত বাংলাদেশি কর্মীর পরিচয় এবং তার মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *