সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

সবশেষ

মালয়েশিয়ায় ২২৪ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি, এক অভিযানে আটক ২০ বাংলাদেশিসহ ১৮১ বিদেশি

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী তৎপরতা আরও জোরদার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। রাজধানী কুয়ালালামপুরের চৌকিটসহ জনবহুল বাণিজ্যিক এলাকা ও প্রবাসীদের বসবাসের স্থানগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। এরই ধারাবাহিকতায় চৌকিটের রাজা বট মার্কেটে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২০ বাংলাদেশিসহ ১৮১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত ৩১ অক্টোবর শনিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানে মোট ৫১২ জন বিদেশি নাগরিকের পরিচয় ও অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৮১ জনকে আটক করা হয়।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪৭ জন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক, ২০ জন বাংলাদেশের, পাঁচজন নেপালের, তিনজন ভারতের, একজন পাকিস্তানের এবং বাকি পাঁচজন অন্যান্য দেশের নাগরিক। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১০ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশনস) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান এবং ইমিগ্রেশন পাসের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাদের বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

নজরদারিতে ২২৪ এলাকা
শুধু একটি বাজার বা নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান সীমাবদ্ধ নেই। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ দেশজুড়ে ২২৪টি এলাকাকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব এলাকার মধ্যে কুয়ালালামপুরের চৌকিটও রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজা বট মার্কেটে চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের তল্লাশি ও অভিযান সামনে আরও চলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

এদিকে অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ, অভিযান শুধু বিদেশি কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অবৈধ নিয়োগের সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোকেও আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সেনাবাহিনীকে অভিযানে যুক্ত করার প্রস্তাব
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি সম্প্রতি দেশটির সংসদেও আলোচনায় এসেছে। গত ১৯ অক্টোবর সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য রাদজি জিদিন দেশব্যাপী অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় ইমিগ্রেশন বিভাগের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও কাজে লাগানোর প্রস্তাব দেন।

তবে সেনাবাহিনীকে ইমিগ্রেশন অভিযানে যুক্ত করার বিষয়টি এখন পর্যন্ত সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবের পর্যায়েই রয়েছে। এ বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিংবা সেনাবাহিনীকে দেশব্যাপী অভিযানে মোতায়েন করেছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে বাড়ছে সতর্কতা
চৌকিট, পুডু এবং কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন পাইকারি বাজার ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ইমিগ্রেশন বিভাগের তৎপরতা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক আটকের ঘটনা এবং সংসদে সেনাবাহিনীকে অভিযানে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব সামনে আসায় বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই নিজেদের অবস্থান ও কাগজপত্র নিয়ে সতর্ক হয়েছেন।

তবে চৌকিট, পুডু ও অন্যান্য এলাকায় ৩১ অক্টোবর এবং ১ নভেম্বর পৃথকভাবে আরও অভিযান পরিচালিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খবরের ভিত্তিতে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিজেদের অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পাসপোর্ট, বৈধ ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট এবং নিয়োগসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে রাখা ও মেয়াদ যাচাই করা জরুরি।

যাদের ভিসা বা কাজের অনুমতিপত্রে কোনো জটিলতা রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযানসংক্রান্ত তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *