রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

সবশেষ

লাগেজ দেরিতে এলে করণীয় কী, যা জানালেন বিমানবন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ

আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রায় কোনো কারণে লাগেজ দেরিতে পৌঁছালে ভোগান্তিতে পড়তে হয় অনেক যাত্রী ও প্রবাসী বাংলাদেশিকে। তবে এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু অধিকার ও প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ। লাগেজ না পেলে বিমানবন্দর ছাড়ার আগেই প্রোপার্টি ইররেগুলারিটি রিপোর্ট (পিআইআর) ফরম পূরণ, ট্র্যাকিং নম্বর সংগ্রহ এবং নির্ধারিত ঠিকানায় বিনা খরচে লাগেজ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি লাগেজ দেরিতে পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ৩ হাজার টাকা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

যাত্রীদের এসব অধিকার ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা তুলে ধরেন।

পোস্টে তিনি জানান, একজন প্রবাসী বাংলাদেশির দেরিতে আসা লাগেজ নির্ধারিত বাসার ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। কুমিল্লার মুরাদনগরের বাসিন্দা ওই যাত্রীর লাগেজ বাড়িতে পৌঁছে না দিয়ে তাকে নিজের ঠিকানা থেকে বেশ দূরে দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ এলাকার একটি হাইওয়ে পয়েন্টে গিয়ে সংগ্রহ করতে বলা হয়। যাত্রীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেখানে লাগেজ পৌঁছে দেওয়া হয়।

বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও তাদের সঙ্গে লাগেজ হোম ডেলিভারির চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানায়, হোম ডেলিভারির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানকে এ সেবার জন্য অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক স্বীকার করেন, যাত্রীর নির্ধারিত ঠিকানায় না দিয়ে দূরের একটি হাইওয়ে পয়েন্টে লাগেজ সরবরাহ করা হয়েছে।

ঘটনাটি বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালতে নিষ্পত্তি হয়। টিকিটের শর্ত এবং এয়ারলাইনসের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী হোম ডেলিভারি না দেওয়ায় জেটলাইনস সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডকে (Jetlines Services Private Ltd) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি দোষ স্বীকার করায় এ অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান জানান, ভবিষ্যতে দেরিতে আসা লাগেজ হোম ডেলিভারির পরিবর্তে কোনো সুবিধাজনক হাইওয়ে পয়েন্টে পৌঁছে দিয়ে যাত্রীদের হয়রানি করা যাবে না। এ বিষয়ে সব এয়ারলাইনসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

লাগেজ না পেলে বিমানবন্দরেই যা করবেন
ম্যাজিস্ট্রেটের পরামর্শ অনুযায়ী, লাগেজ নির্ধারিত বেল্টে না পেলে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের ব্যাগেজ কাউন্টার বা লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ডেস্কে যোগাযোগ করতে হবে।

সেখানে প্রোপার্টি ইররেগুলারিটি রিপোর্ট (PIR) ফরম পূরণ করে এর একটি কপি এবং লাগেজের ট্র্যাকিং নম্বর সংগ্রহ করতে হবে। ফরমে যাত্রীর বাসা বা হোটেলের সঠিক ডেলিভারি ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। পরবর্তী সময়ে ওই ঠিকানায় লাগেজ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর নীতিমালা ও টিকিটের শর্ত অনুযায়ী দেরিতে আসা লাগেজ সাধারণত বিনা খরচে যাত্রীর বাসা বা হোটেলে পৌঁছে দেওয়ার কথা। এ জন্য এয়ারলাইনসগুলো তৃতীয় পক্ষের ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে থাকে।

এ ছাড়া লাগেজ দেরিতে পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে যাত্রী তাৎক্ষণিক ৩ হাজার টাকা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে লাগেজে শুল্কযোগ্য পণ্য থাকার বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানালে যাত্রীকে নিজে উপস্থিত হয়ে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করে লাগেজ সংগ্রহ করতে হতে পারে।

লাগেজ হারালে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণের সুযোগ
বিমানযাত্রার সময় লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এয়ারলাইনসের বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নতুন লাগেজ সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে।

অন্যদিকে, কোনো কারণে ২১ দিনের মধ্যে লাগেজ ফেরত না পাওয়া গেলে যাত্রীর ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান।

অভিযোগ জানাবেন যেভাবে
দেরিতে আসা লাগেজ নির্ধারিত ঠিকানায় পৌঁছে না দেওয়া, যাত্রী অধিকার লঙ্ঘন কিংবা বিমানবন্দরে বৈধ সেবা পেতে হয়রানির শিকার হলে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।

এ জন্য বিমানবন্দরের হটলাইন নম্বর ১৩৬০০-তে যোগাযোগ করতে পারবেন যাত্রীরা।

এ ছাড়া বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও সরাসরি অথবা ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাবে। যোগাযোগ নম্বর: ০১৩০৪০৫০৬০৩।

পোস্টের শেষাংশে ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান যাত্রী ও প্রবাসীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অন্যদেরও এসব অধিকার সম্পর্কে জানাতে বলেন।

তিনি আশ্বস্ত করেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের বৈধ অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পাশে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *