সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সৌদির আপত্তিতে দেড় বিলিয়নের অস্ত্র চুক্তি আটকে দিল পাকিস্তান

সৌদি আরবের আপত্তিতে দেড় বিলিয়নের অস্ত্র চুক্তি আটকে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নিরাপত্তা সূত্র ও একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব দেড় বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি নিয়ে আপত্তি এবং অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে সুদানের কাছে অস্ত্র ও যুদ্ধবিমান সরবরাহের একটি চুক্তি স্থগিত করেছে পাকিস্তান।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর ধরে চলমান সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সংঘাত বিশ্বে সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি বিদেশি স্বার্থের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং লোহিত সাগর তীরবর্তী এই সোনাসমৃদ্ধ দেশটির ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

চলতি বছরের শুরুতে রয়টার্স জানায়, চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সে সময় রিয়াদের অর্থায়নের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ও অস্ত্রব্যবস্থার গুরুত্ব বেড়ে যায়। এ সময়ে আরও কয়েকটি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা ক শুরু হয়। এই চুক্তিও সেই আলোচনার অংশ ছিল।

সৌদি আরব পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির দুর্বল অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঋণ ও অর্থায়নের উৎস। গত বছর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। এ চুক্তিতে এক পক্ষের ওপর আক্রমণকে উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, অর্থায়নের পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পাকিস্তানকে এই চুক্তি বাতিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সুদানের সশস্ত্র বাহিনীও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও রয়টার্সের অনুরোধের জবাব দেয়নি। এর আগে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি নিয়ে কোনো মন্তব্যও করেনি।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, কিছু পশ্চিমা দেশ রিয়াদকে আফ্রিকায় প্রক্সি যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।

সুদানসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ দেশে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিন্ন ভিন্ন পক্ষকে সমর্থন দিয়ে আসছে। দুই পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কথা বললেও, সৌদি আরব সুদানের সেনাবাহিনীকে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে আরএসএফকে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ অভিযোগ তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে।

সূত্র জানায়, মার্চে রিয়াদে সুদানের সেনা নেতাদের সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষের বৈঠকের পরই এই চুক্তির অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, ডিসেম্বর মাসে রয়টার্সে প্রকাশিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি চুক্তিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আরেকটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব এখন এই দুই দেশ নিয়ে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *