আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাদোনার মৃত্যুকে ঘিরে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু তথ্য উঠে এসেছে। যা তার জীবনের শেষ সময়ের বাস্তবতাকে নতুনভাবে সামনে আনছে।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান এই ফুটবল মহানায়ক। এর কিছুদিন আগে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়েছিল, যা তার শারীরিক অবস্থাকে আরও নাজুক করে তোলে বলে ধারণা করা হয়।
মৃত্যুর পেছনে চিকিৎসাগত গাফিলতি ছিল কি না, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরেসের আদালতে চলছে বিচার। এ মামলায় অভিযুক্ত রয়েছেন সাতজন চিকিৎসক ও নার্স, যারা ম্যারাডোনার চিকিৎসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
সাম্প্রতিক শুনানিতে ম্যারাডোনার চিকিৎসায় যুক্ত মনোবিদ কার্লোস দিয়াজ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেন। তিনি আদালতকে জানান, দীর্ঘদিন কোকেন ও অ্যালকোহলে আসক্তির পাশাপাশি ম্যারাডোনা গুরুতর মানসিক সমস্যার মধ্যেও ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যারাডোনা বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও নার্সিসিস্টিক বৈশিষ্ট্যের মতো জটিল মানসিক অবস্থায় ভুগছিলেন।
তবে দিয়াজ নিজেও এই মামলার একজন অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও ওষুধ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে, যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ম্যারাডোনার ব্যক্তিত্ব ছিল বহুমাত্রিক, একদিকে মাঠে অসাধারণ প্রতিভা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনে তীব্র আবেগ, আসক্তি এবং মানসিক টানাপোড়েন।
মনোবিদের দাবি, জীবনের শেষ সময়ে ম্যারাডোনা নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করছিলেন। মৃত্যুর আগে টানা ২৩ দিন তিনি কোনো ধরনের মাদক গ্রহণ করেননি, যা তার পরিবর্তনের ইচ্ছারই প্রতিফলন বলে মনে করেন তিনি।








