সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আনুষ্ঠানিক গেজেট যেকোনো সময় প্রকাশ করা হতে পারে।
সোমবার (৪ মে) রাতে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কমিশন বৈঠকে তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে শুরু থেকেই কিছু জটিলতা ছিল। প্রথমে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মনিরা শারমিনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংকের চাকরি ছাড়ার তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় আইনগত বাধায় তার মনোনয়ন বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
এরপর মনিরা শারমিন উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। সোমবার বিকেল পর্যন্ত তার আপিল শুনানির কথা থাকলেও বেঞ্চের একজন বিচারক অপারগতা প্রকাশ করায় শুনানি হয়নি। আদালত সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৫ মে) অন্য একটি বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য উঠতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন জানায়, আদালত থেকে ভবিষ্যতে কোনো নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী গেজেট বাতিল বা সংশোধনের সুযোগ আইনেই রয়েছে। এ বিষয়ে কমিশনার মাছউদ বলেন, আদালত যদি কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, কমিশন তা মেনে চলবে।
অন্যদিকে, নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন নিয়েও শুরুতে জটিলতা ছিল। নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পরে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তা গ্রহণ করেননি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশনার ভিত্তিতে তার মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় রোববার (৩ মে) তাকে কার্যত নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় এবং সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান।
এদিকে মনিরা শারমিন রোববার ইসিকে একটি চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানান, তার মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যেন অন্য কোনো প্রার্থীর গেজেট প্রকাশ না করা হয়।
উল্লেখ্য, সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৯ জন সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোটের একজন রয়েছেন। সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।








