ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে এক কলেজছাত্রসহ দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার ধজনগর সীমান্তের ভারতীয় অংশে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি মো. মোরছালিন (২২)। কসবার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোরছালিন স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্য নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, শুক্রবার রাতে কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ি থেকে মোরছালিনকে ডেকে নিয়ে যান। পরে সীমান্ত এলাকায় গেলে ভারতীয় অংশে টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোরছালিন গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তার মরদেহ ভারতীয় ভূখণ্ডে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।
এদিকে বিজিবি জানিয়েছে, নিহতরা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় সহযোগীদের সহায়তায় ধজনগর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে চোরাচালানের মালামাল নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাধা দেয়।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির মধ্যে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে মোরছালিনসহ দুই বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন। পরে ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল শরিফুল ইসলাম আরও জানান, নিহতদের মরদেহ ফেরত আনতে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় বিএসএফকে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রটেস্ট নোট পাঠানো এবং পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।








