রবিবার, ১০ মে ২০২৬

সবশেষ

নারী সেলিব্রেটির সঙ্গে শীর্ষ ক্রীড়াতারকার গোপন সম্পর্কের হাজারো ঘনিষ্ঠ বার্তা ও ছবি ফাঁস

একজন পরিচিত নারী সেলিব্রিটি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এক শীর্ষ ক্রীড়াবিদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, সাইবার নজরদারির মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত বার্তা, ঘনিষ্ঠ ছবি ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, ওই নারী সেলিব্রিটি একজন প্রভাবশালী উদ্যোক্তা ও উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিত্ব। তিনি বৃটিশ নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একজন সাইবারস্টকার গোপনে তার ইমেইল এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার অর্জন করে। এরপর তার মোবাইল ফোন থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল প্রায় ৯০ হাজার স্ক্রিনশট, ব্যক্তিগত আলাপচারিতা, সেলফি, ইনভয়েস, রসিদ এবং বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক কথোপকথনের রেকর্ড। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মের ব্যক্তিগত তথ্যও সেখানে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা গবেষক Jeremiah Fowler প্রথম এ তথ্যভাণ্ডারের সন্ধান পান বলে জানা গেছে। তিনি জানান, সাইবারস্টকার তথ্যগুলো অনিরাপদভাবে সংরক্ষণ করায় সেগুলো অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে অনলাইনে উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। ফলে যে কেউ চাইলে এসব তথ্য দেখতে বা ডাউনলোড করতে পারত।

ফাউলার বলেন, ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে এমন কিছু উপাদান ছিল যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর কিংবা ক্ষতিকর হতে পারত। দাবি করা হয়েছে, ওই নারী সেলিব্রিটি এবং সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াবিদ, দু’জনই বিবাহিত। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি এর আগে কখনও প্রকাশ্যে আসেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্যগুলো দীর্ঘ সময় অনলাইনে উন্মুক্ত থাকায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে অন্য কেউ এগুলো সংগ্রহ করে ভবিষ্যতে প্রকাশ, ব্ল্যাকমেইল বা চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহার করতে পারে।

তিনি আরও জানান, পুরো বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইমেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীকেও সতর্ক করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট নারী পুলিশি সহায়তা নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টকারওয়্যার বা নজরদারি সফটওয়্যার বর্তমানে শুধু সেলিব্রিটি নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এ ধরনের সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি, অবস্থান, বার্তা, এমনকি গোপন তথ্যও সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে বেআইনিভাবে স্টকারওয়্যার ব্যবহারকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। দেশটির ১৯৯৭ সালের ‘প্রোটেকশন ফ্রম হ্যারাসমেন্ট অ্যাক্ট’-এর আওতায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো যে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মুহূর্তেই হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *