রবিবার, ১০ মে ২০২৬

সবশেষ

নতুন মা লেভিটকে অভিনন্দন জানিয়ে ‘মিনাবে’ শিশুহত্যার কথা মনে করাল ইরান

হোয়াইট হাউসের তরুণ প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট সম্প্রতি দ্বিতীয় সন্তানের মা হয়েছেন। কন্যাসন্তানের জন্ম উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুভেচ্ছা বার্তা এলেও, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এক অভিনন্দন বার্তা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। কারণ শুভেচ্ছার পাশাপাশি সেখানে উঠে এসেছে ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে সংঘটিত ভয়াবহ হামলার প্রসঙ্গও।

গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের নবজাতক কন্যার জন্মের খবর জানান ক্যারোলাইন লেভিট। তিনি জানান, ১ মে তাদের পরিবারে নতুন সদস্য হিসেবে এসেছে ছোট্ট ‘ভিভি’। শিশুটির পুরো নাম রাখা হয়েছে ভিভিয়ানা।

নিজের পোস্টে লেভিট লিখেন, “১ মে, ভিভিয়ানা ওরফে ‘ভিভি’ আমাদের পরিবারে এসেছে। মুহূর্তেই আমাদের হৃদয় ভালোবাসায় ভরে গেছে।” পোস্টের সঙ্গে একটি ছবিও শেয়ার করেন তিনি, যেখানে নবজাতক মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নার্সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।

২৮ বছর বয়সী ক্যারোলাইন লেভিট বর্তমানে হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেয়ের জন্ম নিয়ে দেওয়া পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ রয়েছে এবং বড় ভাইও নতুন অতিথিকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। পরিবারের এই বিশেষ সময় উপভোগ করছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস লেভিটের ওই পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করে অভিনন্দন জানায়। তবে সেই বার্তায় কেবল শুভেচ্ছাই ছিল না, ছিল তীব্র রাজনৈতিক বার্তাও।

দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়, “আপনাকে অভিনন্দন। শিশুরা নিষ্পাপ এবং তারা ভালোবাসার যোগ্য। মিনাবের যে ১৬৮ শিশুকে আপনার বস হত্যা করেছেন এবং আপনি যার সমর্থন করেছিলেন, তারাও শিশু ছিল। আপনি যখন আপনার শিশুকে আদর করবেন, তখন সেই নিহত শিশুদের মায়েদের কথাও মনে করবেন।”

ইরানের এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির একটি আলোচিত হামলার ঘটনা। ওইদিন ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তায়িবা নামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ৭৩ জন ছেলেশিশু ও ৪৭ জন মেয়েশিশুসহ মোট ১৬৮ শিক্ষার্থী নিহত হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন শিক্ষক, ৭ জন অভিভাবক, একটি স্কুলবাসের চালক এবং স্কুলসংলগ্ন একটি ক্লিনিকের ফার্মেসি টেকনিশিয়ানও।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ওইদিন দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালায় এবং সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই মিনাবের স্কুলটিতে আঘাত হানা হয়।

পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভুলবশত স্কুলটিতে আঘাত হেনেছিল। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে বলা হয়, লক্ষ্য নির্ধারণে ভুল হওয়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

যদিও শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই স্কুলটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নেই।

ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনো বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে। আর নতুন মা হওয়া ক্যারোলাইন লেভিটকে ঘিরে ইরানের সাম্প্রতিক বার্তা সেই বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *