মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে শান্তিচুক্তি নিয়ে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে ইরান। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবের জবাবে ঠিক কী বলা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
রোববার ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে ইরান লিখিত জবাব হস্তান্তর করেছে। পরে সেই জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
গত কয়েক মাস ধরে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে শান্তিচুক্তির বিষয়ে একাধিকবার প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব বিনিময় করেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। তবে নানা শর্ত ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই পক্ষ এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ইরানের কাছে ১৪ দফার একটি নতুন প্রস্তাব পাঠায়। এতে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করা, সামরিক তৎপরতা সীমিত করা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কয়েকটি শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ধারণা করছে।
ওয়াশিংটন আশা করেছিল, গত শুক্রবারের মধ্যেই ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবস্থান জানাবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো জবাব না আসায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।
এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। সেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। যদিও উভয় পক্ষই সংঘাতের মাত্রা সীমিত রাখার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তারা ইরানের পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী ট্যাংকার অচল করে দিয়েছে। একই দিনে ইরানও পাল্টা দাবি করে, ওমান উপসাগরে একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষ অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ১১ ও ১২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী সেই বৈঠকে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে নতুন সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।








