ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ৩৯টি বিমান হারিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ওয়াশিংটনেও।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১২ মে) অনুষ্ঠিত সিনেট শুনানিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা এড কেস এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, ‘দ্য ওয়ার জোন’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রায় ৩৯টি বিমান হারিয়েছে। আর সেটিও প্রায় এক মাস আগের তথ্য।
প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে মার্কিন বিমান বাহিনী প্রায় ১৩ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। সেই সময়ের মধ্যে ৩৯টি বিমান পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১০টি বিমান বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানের আকাশসীমার ভেতরে একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান আঘাতের শিকার হয়। পাশাপাশি একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান ধ্বংস হওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান।
প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।








