বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

সবশেষ

এপ্রিলজুড়ে ৫২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫১০, আহত ১২৬৮

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা যেন ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এপ্রিল মাসে সারাদেশে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১০ জন। আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ২৬৮ জন। একই সময়ে রেল ও নৌ-পথ মিলিয়ে মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৬টি। এতে নিহত হয়েছেন ৫৬৩ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৭৯ জন।

বুধবার (১৩ মে) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটির দাবি, সংবাদমাধ্যমে সব ঘটনা প্রকাশ না পাওয়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে রেলপথে ৫৪টি দুর্ঘটনায় ৪৯ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে নৌপথে ৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪ জনের।

সড়ক দুর্ঘটনার দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত এবং ২৬৩ জন আহত হয়েছেন। বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। এ বিভাগে ১৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৮ জন, আহত হন ৬৪ জন।

দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন পরিবহনের ৯৯ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ৫৬ জন শিক্ষার্থী, ৫২ জন নারী, ৪৭ জন শিশু ও ২৫ জন পরিবহন শ্রমিক রয়েছেন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

সংগঠনটির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটেছে ৩১ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ফিডার রোডে ২২ দশমিক ৯৬ শতাংশ দুর্ঘটনা। এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরীতে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, সড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও রোড সাইন না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, উল্টোপথে যান চলাচল, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিরতিহীনভাবে গাড়ি চালানো।

এসব দুর্ঘটনা কমাতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বেশ কিছু সুপারিশও করেছে। তারা বলেছে, সড়কে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা বাড়ানো, দক্ষ চালক তৈরিতে কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, ডিজিটাল ফিটনেস ব্যবস্থা চালু, মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও সার্ভিস লেন নির্মাণ, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। পাশাপাশি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়ানোরও তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *