শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সবশেষ

হামলা সামলে সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করল ইরান, সচল ৯০% ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি

যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলা ও কঠোর বক্তব্যের পরও ইরান তার সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি উঠেছে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি আবারও সচল অবস্থায় ফিরেছে এবং দেশটির কৌশলগত সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ এখনো কার্যকর রয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি মে মাসের শুরুতে প্রস্তুত করা মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা ইরানের ৩৩টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরও ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত এবং মোবাইল লঞ্চার অক্ষত রয়েছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির প্রায় ৯০ শতাংশ ‘আংশিক অথবা পুরোপুরি সচল’ অবস্থায় আছে বলে গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে।

তবে এ মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নয় হোয়াইট হাউস। মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান সামরিক অবস্থান টেকসই নয়। তার ভাষায়, যারা মনে করছেন তেহরান দ্রুত সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করেছে, তারা হয় বিভ্রান্ত, নয়তো ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের বক্তব্য প্রচার করছেন।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে এর আগেও বারবার মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হামলার সময় তিনি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের আঘাতে ইরানের সামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। তবে যুদ্ধ চলাকালে ইরানও পাল্টা জবাব দিতে পিছিয়ে ছিল না। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় অন্তত ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালানোর তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।

যুদ্ধবিরতির পরও নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর দাবি করেছে তেহরান। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ মুসাভি গত মাসে বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে।

সবশেষ গত শনিবার তিনি জানান, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন রয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশ পেলেই সেগুলো ব্যবহার করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *