বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

সবশেষ

জামায়াতের সঙ্গে জোটে থাকা নেতাদের ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে হেফাজত!

হেফাজতে ইসলামের ভেতরে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে সংগঠনের একাধিক প্রভাবশালী নেতার সম্পৃক্ততার ঘটনায় কঠোর অবস্থানে গেছেন হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাত সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত হেফাজতে ইসলামের অনেক শীর্ষ নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সাম্প্রতিক নির্বাচনী সমীকরণকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির ভেতরে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন পৃথক জোটে হেফাজতসংশ্লিষ্ট কয়েকটি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের পর থেকেই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন বাড়তে থাকে।

জানা গেছে, জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতায় অংশ নেওয়া চারটি রাজনৈতিক দলে হেফাজতের উপদেষ্টা, নায়েবে আমির ও যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের নেতারা রয়েছেন। এ অবস্থায় গত ১৮ এপ্রিল সংগঠনের আমিরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করবে সাত সদস্যের কমিটি। পরে সেই প্রতিবেদন আমিরের কাছে জমা দেওয়া হবে। এর ভিত্তিতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

হেফাজতের ভেতরে এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠন ভাঙনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সংগঠনের নেতারা দাবি করছেন, মতপার্থক্য থাকলেও হেফাজতের ঐক্যে কোনো ভাঙন ধরবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, নির্বাচনী জোটে থাকা নেতাদের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। বাইরে থেকে কিছু মহল হেফাজতের কার্যকারিতা দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ মনে করেন, অরাজনৈতিক সংগঠনের রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। তিনি বলেন, হেফাজত আমির বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ হওয়ায় অনেক সময় বিভিন্ন পক্ষের কথায় প্রভাবিত হন।

হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশীরুল্লাহ বলেন, জামায়াতের সঙ্গে সংগঠনের কিছু নীতিগত ও বিশ্বাসগত দূরত্ব রয়েছে। তবে সেটিকে বড় ধরনের বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এদিকে যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সংগঠনকে বিভক্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন নেতা ভিন্ন ভিন্ন জোটে থাকলেও এখন সবাইকে একত্রিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে হেফাজতে ইসলাম গঠিত হয়। সরাসরি রাজনীতিতে অংশ না নিলেও বিভিন্ন সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য প্রভাব দেখা গেছে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের পর সংগঠনটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *