সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের মুখে পড়েছে। হামলার পেছনে ইরান বা তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আমিরাত।
রোববার আবুধাবির আল-ধাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার বাইরে একটি ড্রোন আঘাত হানে বলে জানিয়েছে আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে কেন্দ্রটির একটি জেনারেটরে আগুন ধরে যায়। তবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আমিরাতের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, হামলার পরও কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে আছে। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সরাসরি ইরান কিংবা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা পুরো অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা নীতিমালার চরম লঙ্ঘন। বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এ বিষয়ে সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিকেও বিস্তারিত অবহিত করেছেন আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, এ ধরনের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ জবাব দেওয়ার অধিকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রয়েছে।
আইএইএ-ও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলে এমন সামরিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে আঘাত হানা ড্রোনটি ছিল দেশের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা তিনটি ড্রোনের একটি। বর্তমানে হামলার উৎস শনাক্তে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আল-জাজিরার তথ্যমতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায় প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২১ সালে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যায়। বর্তমানে এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক-চতুর্থাংশ সরবরাহ করছে।








