সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

সবশেষ

রাশিয়ায় ইউক্রেনের নজিরবিহীন ড্রোন হামলা!

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনায় নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, শত শত ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এই হামলায় মস্কো ও বেলগোরোদ অঞ্চলে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।

রোববার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাতভর ইউক্রেনীয় বাহিনীর ছোড়া মোট ৫৫৬টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। পরে সকালে আরও ৩০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধের মধ্যে এটিই রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ড্রোন অভিযানের একটি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৪টি রুশ অঞ্চল, ক্রিমিয়া উপদ্বীপ এবং কৃষ্ণ ও আজভ সাগর এলাকার আকাশে এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয়। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে মস্কো ঘিরে থাকা এলাকাগুলোতে।

মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানিয়েছেন, একটি ড্রোন ব্যক্তিগত বাড়িতে আঘাত হানলে এক নারী নিহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও একজন আটকা পড়েছেন বলেও জানান তিনি। পরে আরও দুইজন পুরুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।

তার ভাষ্য, রাত তিনটার পর থেকেই রাজধানী অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন হামলা শুরু হয় এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা মোকাবিলা করে। হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, রাজধানীতে ৮০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এতে ১২ জন আহত হন। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেনি।

তিনি জানান, একটি হামলায় তেল ও গ্যাস শোধনাগারের কাছাকাছি কাজ করা শ্রমিকরা আহত হয়েছেন। তবে শোধনাগারের উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া তিনটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলের শেবেকিনো জেলায় ড্রোন হামলায় একটি লরিতে থাকা এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার হামলায় কিয়েভে ২৪ জন নিহত ও প্রায় ৫০ জন আহত হওয়ার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পাল্টা জবাবের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার ছোড়া ২৮৭টি ড্রোনের মধ্যে ২৭৯টিই তারা ভূপাতিত করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষকে আলোচনায় ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত শুরুর পর রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয় দিবস উপলক্ষে ঘোষিত তিন দিনের যুদ্ধবিরতি মঙ্গলবার শেষ হওয়ার পর থেকেই মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *