সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

সবশেষ

আ.লীগের আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: হাসনাত

দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ থেকে আওয়ামী লীগের আর ফেরার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

সোমবার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে আয়োজিত পদযাত্রা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সংকটের সময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে রেখে দেশ ত্যাগ করেছে, সেই দলের আর রাজনীতিতে ফেরার নৈতিক অধিকার নেই। তার ভাষায়, “বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।”

তিনি আরও দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকলেও আওয়ামী লীগ প্রশ্নে সব পক্ষের মধ্যে এক ধরনের ঐক্যমত রয়েছে।

পথসভায় বক্তব্যে তিনি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়েও কথা বলেন। তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষ দেশে চিকিৎসা গ্রহণ করলেও একটি শ্রেণি বিদেশে চিকিৎসা নেয় এবং তাদের সন্তানরা বিদেশে পড়াশোনা করে—এ ধরনের ব্যবধান কমাতে হবে।

এনসিপির এই নেতা বলেন, দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে এবং বেকারত্ব দূর করতে একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি সরকারি ও বেসরকারি খাতে দক্ষ জনশক্তির জন্য সুযোগ তৈরির পাশাপাশি এসএমই খাতকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

তিনি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের ওপরও জোর দেন। তার মতে, দেশে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী হতে না হয়।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, কিছু পুলিশ সদস্য পদোন্নতির আশায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের কারণে গ্রেফতারের ঘটনাও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রামকে সীমান্তবর্তী এলাকা উল্লেখ করে মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্যে মাদক চোরাচালান ও পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগও উঠে আসে। তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা জরুরি।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় যুব শক্তির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান রায়হান। সঞ্চালনা করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন মজুমদার। এতে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *