শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

ঈদযাত্রার ব্যস্ততার মধ্যেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের মা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে কুমিল্লা-সিলেট এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুটি পৃথক স্থানে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার বিয়াল্লিশ্বর এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কসবা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কাউসার আহমেদ তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নরসিংদীতে আত্মীয়ের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিয়াল্লিশ্বর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাছবাহী পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার চালক মাহবুব আলম (৫০) নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর কাউসার আহমেদের স্ত্রী জোসনা আক্তার (৪০) এবং তাদের আট বছর বয়সী ছেলে আশরাফুল মারা যান। গুরুতর আহত কাউসার আহমেদ, তার মেয়ে আশা মনি (১৪) ও ছোট মেয়ে আদিবা আক্তারকে (৩) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

নিহত চালক মাহবুব আলমের স্বজন বোরহান উদ্দিন অভিযোগ করেন, মহাসড়কে মাছবাহী পিকআপ ভ্যানগুলোর বেপরোয়া চলাচল প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যথাযথ নজরদারির অভাবে এ ধরনের যানবাহন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নিহত জোসনা আক্তারের চাচাতো ভাই মনজুর মাহমুদ। তার মতে, মহাসড়কে কার্যকর নজরদারি ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান জানান, নিহতদের পরিবারের সম্মতি থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার পর পিকআপচালক পালিয়ে গেলেও যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে, একই দিন ভোর ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি প্রাইভেটকার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে অলি মিয়া নামে এক যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন।

নিহত অলি মিয়া সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বরইবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা এবং ইদন মিয়ার ছেলে। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *