সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। যদিও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ উদ্দেশ্যে আলাদা কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি, তবুও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিকল্প উৎস থেকে অর্থ জোগান দিয়ে নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন শুরু করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা খাতে মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতার জন্য ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তুলনামূলকভাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে তা বেড়ে ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর কিছু অংশ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেক সুবিধা বাস্তবায়ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন পে-স্কেল নির্ধারণে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পে কমিশনের সুপারিশ বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটি এখনও চূড়ান্ত মতামত দেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, কমিশনের সুপারিশে প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা সমন্বয় করে সরকারকে সংশোধিত প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।
অর্থসংস্থানের বিষয়টি নিয়ে আপাতত উদ্বিগ্ন নয় সরকার। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন খাতে রাখা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ এবং অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের জন্য সংরক্ষিত তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হবে। ফলে পৃথক বরাদ্দ ছাড়াই আগামী জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের পথ তৈরি হতে পারে।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির হিসাব ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮ শতাংশ অর্থ আসবে বৈদেশিক উৎস থেকে এবং বাকি ৫২ শতাংশ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে।
সামাজিক সুরক্ষা খাতে মোট বাজেটের ৩০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মেট্রোরেল সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ঋণ ও আমানতের ক্ষেত্রে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারী শুল্ক মওকুফের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যা আগে ছিল তিন লাখ টাকা।
অন্যদিকে স্বর্ণের ওপর করের বোঝা বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ভরি স্বর্ণে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় মদের ওপর নতুন করে প্রতি লিটারে ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।







