প্রত্যন্ত গ্রামের স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্নের পেছনে বছরের পর বছর পরিশ্রম, আজ তা পৌঁছে গেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে। কাতার প্রবাসী বাংলাদেশি আবজল আহমেদ এবার জায়গা করে নিয়েছেন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ভলান্টিয়ার দলে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তিনি হসপিটালিটি ভলান্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনালসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার এক সাধারণ গ্রাম থেকে শুরু হয়েছিল তার ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার যাত্রা। সেই যাত্রা আজ তাকে নিয়ে গেছে বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে।
আবজল আহমেদের জন্য এটা প্রথম আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নয়। এর আগে তিনি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে পায়োনিয়ার ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ২০২১ ও ২০২৫ সালে কাতার ফিফা আরব কাপ, ফর্মুলা ওয়ান কাতার গ্রাঁ প্রি, ২০২২ সালের বার্লিন স্পেশাল অলিম্পিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত FISU ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি উইন্টার গেমস ২০২৩-এও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ এই অভিজ্ঞতার পথই তাকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ভলান্টিয়ারিংয়ে একজন পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।
বিশ্বকাপ ২০২৬ আয়োজন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ ব্যবস্থাপনায়। ৪৮ দলের এই আসরের জন্য প্রায় ১০ লাখ আবেদনকারীর মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার ভলান্টিয়ার। সেই বিশাল প্রতিযোগিতাতেই জায়গা করে নিয়েছেন আবজল আহমেদ।
সম্প্রতি তিনি কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে ভলান্টিয়ার ইউনিফর্ম সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন।
নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আবজল আহমেদ বলেন, ফিফা বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে আবারও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা তার জন্য গর্বের বিষয়। তার আশা, ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে যুক্ত হবেন এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।
প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মতে, আবজল আহমেদের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উপস্থিতি ও সক্ষমতার একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।








