যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতার আগেই সই সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির পথে ৬০ দিনের নতুন আলোচনা পর্ব শুরু হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে অবস্থানকালে সমঝোতা স্মারকে সই করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, চুক্তির নথিতে সই সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি মাত্রই ভার্সাইয়ে এ প্রক্রিয়া শেষ করেছেন।
জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে ফ্রান্স সফরে রয়েছেন ট্রাম্প। এ সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্পের সইয়ের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তিতে ওই রাতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সই করেছেন।
একই দিনে ইরানের পক্ষ থেকেও সমঝোতা স্মারকে সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ইরনাকে জানান, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অনুমোদনের মাধ্যমে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। এখন চুক্তির বাস্তবায়ন ও তা যাচাইয়ের ধাপ শুরু হবে।
বাঘাই আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকটি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফলে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট নিজ নিজ অবস্থান থেকেই নথিতে সই করেছেন। এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো পৃথক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।
এর আগে, সুইজারল্যান্ড সরকার জানিয়েছিল, স্থানীয় সময় শুক্রবার লুসার্ন হ্রদের পার্বত্য অঞ্চলের একটি বিলাসবহুল হোটেলে আনুষ্ঠানিক সই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে ঘোষিত সময়ের এক দিন আগেই দুই পক্ষের সই সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে ইসমাইল বাঘাই বলেন, যখন দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারা কোনো নথিতে সই করেন, তখন তা ভঙ্গ করার রাজনৈতিক মূল্য অনেক বেশি হয়ে যায়। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে ইরান এ ধরনের পদ্ধতিকেই বেশি কার্যকর মনে করেছে।
এদিকে, সমঝোতা প্রক্রিয়ার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, চুক্তিটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধের উদ্দেশ্যে ইরানের সঙ্গে হওয়া ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ করে। মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে নথির বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।
নথিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশার কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমঝোতা স্মারকে সই সম্পন্ন হওয়ায় এখন দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে ৬০ দিনের সময়সীমা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।








