মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সবশেষ

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে প্রবাসীদের করণীয় কী?

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফ্রান্সসহ একাধিক দেশে তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে, বাড়ছে মৃত্যু ও স্বাস্থ্যঝুঁকি। তথ্য বলছে, ফ্রান্সে শুধু তাপজনিত কারণেই অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গরমে গাড়ির ভেতরে রেখে দেওয়া দুই শিশু। দেশটির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি গুরুতর।

বোর্দো শহরে তাপমাত্রা উঠেছে প্রায় ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পোয়তিয়ে শহরে তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪১.২ ডিগ্রিতে, যা দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে। স্পেনের সান সেবাস্তিয়ানসহ বিভিন্ন শহরেও ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে। ইতালির ১২টি শহরে জারি করা হয়েছে ‘রেড হিট অ্যালার্ট’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে একটি স্থির আবহাওয়াগত প্যাটার্ন, যাকে বলা হচ্ছে ওমেগা ব্লক। এটি উষ্ণ বাতাসকে ইউরোপের ওপর আটকে রাখছে, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তাপমাত্রা কমছে না।

গবেষকরা বলছেন, সাহারা মরুভূমি ও উত্তর আফ্রিকা থেকে গরম বাতাস ইউরোপে প্রবেশ করছে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের তাপপ্রবাহ আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। তাপপ্রবাহে শুধু গরমজনিত মৃত্যু নয়, পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। ফ্রান্সে একাধিক স্থানে মানুষ স্বস্তির জন্য পানিতে নামলেও দুর্ঘটনা ঘটছে।

হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে প্রবাসীদের করণীয় কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মানা জরুরি। প্রথমত, দিনের সবচেয়ে গরম সময় অর্থাৎ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। দ্বিতীয়ত, প্রচুর পানি পান করতে হবে, শরীর হাইড্রেটেড রাখতে হবে। তৃতীয়ত, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিত। চতুর্থত, সরাসরি রোদে বেশি সময় থাকা যাবে না। পঞ্চমত, শিশু ও বয়স্কদের কখনোই গাড়ির ভেতরে বা বন্ধ স্থানে একা ফেলে রাখা যাবে না। ষষ্ঠত, হিটস্ট্রোকের লক্ষণ, যেমন- মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বমিভাব দেখা দিলে দ্রুত ছায়ায় বা শীতল স্থানে যেতে হবে এবং চিকিৎসা নিতে হবে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রয়োজন হলে ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর দ্রুত শীতল করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এবং জরুরি অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইউরোপের এই তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তাই সচেতনতা ও সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণই হতে পারে জীবন বাঁচানোর প্রধান উপায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *