বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সবশেষ

ভিসা দেওয়া বাড়িয়েছে জাপান, নিয়মে কড়াকড়ি আর বাড়ছে ফি!

জাপানের ভিসা নীতি আবারও আলোচনায় এসেছে। একদিকে ভিসা ইস্যুর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে ফি বৃদ্ধি ও নিয়ম-কানুনে কঠোরতা দেশটিতে ভ্রমণ ও বসবাসের প্রক্রিয়াকে আরও ব্যয়বহুল ও জটিল করে তুলছে।

করোনার সময় পর্যটন খাত প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় জাপান বিদেশিদের ভিসা প্রদান ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছিল। তবে সেই পরিস্থিতি এখন অনেকটাই পাল্টেছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী জাপানি দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো মোট প্রায় ৭৮ লাখ ৬২ হাজার ভিসা দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। এই সংখ্যা মহামারির পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভিসা গ্রহণকারীদের বড় অংশই চীন, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের নাগরিক। মোট ভিসার প্রায় ৮৪ শতাংশই গেছে এসব দেশের নাগরিকদের কাছে, যার মধ্যে চীনের অংশ একাই প্রায় ৭৩ শতাংশ। ভারতের অবস্থানও শীর্ষ পাঁচের মধ্যে রয়েছে, যেখানে ২ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি নাগরিক জাপানের ভিসা পেয়েছেন। রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াও শীর্ষ তালিকায় আছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, রাশিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও দেশটির প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার নাগরিক ভিসা পেয়েছেন। তবে বাংলাদেশ এই তালিকার শীর্ষ দশে জায়গা করতে পারেনি।

ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়ছে। সম্প্রতি জাপান সরকার ১৯৭৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ভিসা ফি বড় পরিসরে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একবার প্রবেশযোগ্য ভিসার ফি ৩ হাজার ইয়েন থেকে বেড়ে ১৫ হাজার ইয়েনে পৌঁছাবে। একইভাবে একাধিকবার প্রবেশযোগ্য ভিসার ফি ৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩০ হাজার ইয়েন করা হয়েছে। এই পরিবর্তন আগামী মাস থেকে কার্যকর হবে।

শুধু ভিসা ফি নয়, দেশত্যাগ করও তিন গুণ বাড়িয়ে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার ইয়েনে উন্নীত করা হয়েছে। এই বাড়তি খরচ জাপানি ও বিদেশি উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। তবে নাগরিকদের ওপর চাপ কমাতে পাসপোর্ট ফি কিছুটা কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

স্থায়ী বসবাসের আবেদনেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ফি প্রায় ১০ হাজার ইয়েন থেকে বেড়ে ২ লাখ ইয়েন পর্যন্ত হতে পারে। সরকারের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় জাপানের ফি এখনও তুলনামূলক কম, তাই আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনাই লক্ষ্য।

এদিকে নীতিগত দিক থেকেও জাপান কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। অভিবাসন ও বিদেশি নীতির দায়িত্বে থাকা নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আইন লঙ্ঘনকারী বিদেশিদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ করে অবস্থান করা বা শর্ত ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানও বাড়ানো হয়েছে।

এর পাশাপাশি বিদেশিদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। যেমন ‘বিজনেস ম্যানেজার’ ভিসার ক্ষেত্রে মূলধনের শর্ত কয়েকগুণ বাড়িয়ে ৫০ লাখ ইয়েন থেকে ৩ কোটি ইয়েনে উন্নীত করা হয়েছে, যাতে অপব্যবহার রোধ করা যায়।

জাপান এখন একদিকে বেশি সংখ্যক ভিসা দিয়ে বিদেশি আগমন উৎসাহিত করছে, অন্যদিকে খরচ ও শর্ত কঠোর করে অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও যাচাই-বাছাইভিত্তিক করে তুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *