মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যুদ্ধবিরতির পথে এগোচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কিন্তু হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কী ঘটেছে?
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক টেলিগ্রাম বার্তায় আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
একই সঙ্গে বাহিনীটি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরানের প্রতিক্রিয়া আরও বিস্তৃত ও কঠোর হবে।
কেন নতুন করে উত্তেজনা?
পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের সূত্রপাত হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর দাবি, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এভার লাভলিতে হামলার জন্য ইরান দায়ী। এর জবাবেই তারা ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক অভিযান চালায়।
তবে তেহরান সেই হামলার জবাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
সমঝোতার পরও কেন সংঘাত থামল না?
গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই সমঝোতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। এর ফলে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সেটি ছিল মূলত পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি তৈরির একটি প্রাথমিক সমঝোতা, চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়। ফলে নতুন কোনো উসকানি পুরো প্রক্রিয়াকে আবারও ভেঙে দিতে পারে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো যেন সেই আশঙ্কাকেই সত্যি করছে।
ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
শুক্রবার দিনের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে এভার লাভলি জাহাজে হামলাকে ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেন।
তার ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা প্রকাশ্যে আসে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে যায়।
ফলে এ অঞ্চলে সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানিবাজার, নৌবাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এখন যেসব প্রশ্নের দিকে নজর
বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কয়েকটি বিষয়ের দিকে। তার মধ্যে ইরানের দাবি করা পাল্টা হামলায় মার্কিন স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এ হামলার আরও সামরিক জবাব দেবে কি না। এবং গত সপ্তাহের সমঝোতা কার্যত ভেঙে গেল কি না। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে, নাকি নতুন নিরাপত্তা সংকট তৈরি হবে।
এসব প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে, নাকি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আবারও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।








