মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সবশেষ

আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল: চট্টগ্রাম-৪ আসনের ভবিষ্যৎ কার হাতে কীভাবে?

চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের রায়ের পর আসনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এ আসনে পুনর্নির্বাচন হবে, নাকি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা কী আসে।

মঙ্গলবার আপিল বিভাগ একই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিল মঞ্জুর করে রায় দেন। এর মাধ্যমে ঋণখেলাপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের নিষ্পত্তি হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আসলাম চৌধুরী। যদিও আদালতের নির্দেশে নির্বাচনের পর থেকেই তার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবারের রায়ের মধ্য দিয়ে সেই আইনি প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তি হলো।

রায় ঘোষণার পর এক ব্রিফিংয়ে জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, আদালতের রায়ের ফলে আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং তিনি অযোগ্য প্রার্থী হিসেবে গণ্য হয়েছেন। তবে এই পরিস্থিতিতে আসনটির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, তা আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিতভাবে কোনো নির্বাচনে প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রার্থী অযোগ্য ঘোষিত হলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করার নজির রয়েছে। তবে এই মামলায় আপিল বিভাগ ভিন্ন কোনো নির্দেশনা দেন কি না, তা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন হলে আসলাম চৌধুরীর অংশগ্রহণে আইনগত বাধা থাকবে না বলে মত দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

রায়ের পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির অযোগ্যতা চিরস্থায়ী নয়। পূর্ববর্তী নির্বাচনে যে কারণে তার বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ করা হয়েছে, সেই কারণে তিনি ওই নির্বাচনের ফল ভোগ করতে পারবেন না। তবে ভবিষ্যতে যদি সংশ্লিষ্ট অযোগ্যতা দূর হয় এবং তিনি আইন অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জন করেন, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হতে তার কোনো আইনি বাধা থাকার কথা নয়।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ মামলার মূল প্রশ্ন ছিল, মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন আসলাম চৌধুরী ঋণখেলাপি ছিলেন কি না। আদালতের রায়ে সেই বিষয়টিই নির্ধারক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে সর্বাধিক ভোট পেয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *