শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

বুকিত নানিং নির্বাচনে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, বাংলাদেশি কর্মীদের আবাসন ও আনারসচাষিদের সংকটেই জোর

মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের বুকিত নানিং বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে উন্নয়ন ও স্থানীয় অর্থনীতির বিষয়গুলোই প্রাধান্য পাচ্ছে। নির্বাচনি প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে আসবাবপত্র শিল্পে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা এবং আনারসচাষিদের দীর্ঘদিনের বাজার সংকট।

পাকাতান হারাপান (পিএইচ) জোটের প্রার্থী মো. ইসাহরুদিন কুসনি বলেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি বাতু ৫ ও জালান বাকরি এলাকায় গড়ে ওঠা আসবাবপত্র শিল্পকেন্দ্রকে ঘিরে সৃষ্ট প্রবাসী শ্রমিকদের আবাসন সংকট সমাধানে অগ্রাধিকার দেবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কর্মীদের সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি জানান, বাকরি এলাকায় নির্মাণাধীন ‘মুয়ার ফার্নিচার পার্ক’ দ্রুত চালু করা গেলে আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। প্রায় ১০০টি কারখানা নিয়ে গড়ে ওঠা এই শিল্পপার্কে কর্মরত অধিকাংশ বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য পার্কের ভেতরেই আবাসন, মসজিদ, সুপারমার্কেটসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তার মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। পাশাপাশি স্থানীয় আবাসিক এলাকায় শ্রমিকদের বসবাসকে কেন্দ্র করে যে সামাজিক দূরত্ব বা বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলোও অনেকাংশে কমে আসবে।

তবে তিনি জানান, ভূমি উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগের কিছু কাজ এখনও বাকি থাকায় মেগা প্রকল্পটির অগ্রগতি প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। এসব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকল্পটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, বুকিত নানিংয়ের কৃষি খাতেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে আনারসের বাজার সংকট। করোনাকাল থেকে শুরু হওয়া এই সমস্যার কারণে একই সময়ে বিপুল পরিমাণ আনারস বাজারে আসায় প্রায়ই ২০ থেকে ৩০ টন পর্যন্ত ফল অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। এতে উৎপাদকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মালয়েশিয়ান আনারস শিল্প বোর্ডের সহযোগিতায় নতুন আন্তর্জাতিক বাজার খোঁজার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মো. ইসাহরুদিন কুসনি। পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত আনারস ব্যবহার করে জ্যামসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদনের কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এতে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *