বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে এজেন্সিগুলো গলাকাটা ফি নিচ্ছে, এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে: প্রতিমন্ত্রী

বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং প্রতারণা বন্ধে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তার মতে, অভিবাসন খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘অনলাইন কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট মডিউলের’উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতারিত অভিবাসী কর্মীদের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এই অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থার উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে এজেন্সিগুলোর ‘গলাকাটা’ ফি আদায়ের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

বিএমইটি ও বেসরকারি সংস্থা রামরুর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ সচিব আখতার আহমেদসহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। তবে সুষ্ঠু যাচাই-বাছাই করা হলে এর মধ্যে ৫০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার উপযুক্ত নাও হতে পারে। তিনি এজেন্সিগুলোকে আইন ও নীতিমালা মেনে বিদেশে কর্মী পাঠানোর আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে চাহিদাপত্র (ডিমান্ড লেটার) নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর জন্যও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যাতে পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়।

নুরুল হক নুর বলেন, বিদেশে গিয়ে কেউ প্রতারণার শিকার হলে অভিযোগের ভিত্তিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পাশে থাকবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অনিয়ম ঠেকাতে অতিরিক্ত কঠোরতা আরোপ করতে গিয়ে যেন বিদেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ ব্যাহত না হয়, সেদিকেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *