সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পর চাকরির সুযোগ পেতে গুনতে হতে পারে ১ লাখ ডলার

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পর কর্মজীবনে প্রবেশের পথ আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে, যার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি পেতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে অবগত একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি খাত এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে।

প্রস্তাবিত ফি আরোপ করা হবে ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ (ওপিটি) কর্মসূচির ওপর। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পরও স্টুডেন্ট ভিসার আওতায় এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় প্রায় ৪ লাখ ১৯ হাজার বিদেশি এই সুবিধা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈধ অভিবাসন সীমিত করার নীতিরই ধারাবাহিকতা। তবে এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যাদের আয়ের বড় একটি অংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি সিলিকন ভ্যালি ও ওয়াল স্ট্রিটের বহু প্রতিষ্ঠানও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, কারণ তারা প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট নিয়োগ দেয়।

এর আগে, ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রেও ১ লাখ ডলারের ফি চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল। যদিও প্রযুক্তি খাতের প্রবল আপত্তি এবং বোস্টনের একটি আপিল আদালতের নির্দেশে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেমে যায়। পরে প্রশাসন নতুন বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রেই সেই ফি সীমাবদ্ধ রাখার চিন্তা করে।

প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের অনেক বড় প্রতিষ্ঠান সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রথমে ওপিটি কর্মসূচির আওতায় নিয়োগ দেয় এবং পরে তাদের এইচ-১বি ভিসায় স্থানান্তর করে। ফলে ওপিটির ওপর নতুন করে ১ লাখ ডলারের ফি আরোপ করা হলে এসব প্রতিষ্ঠানও সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) এক মুখপাত্র বলেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো নীতিকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও অখণ্ডতা বজায় রাখতে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, শুধু ওপিটি নয়, অভিবাসন-সংক্রান্ত আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে উচ্চ অঙ্কের অর্থনৈতিক শর্ত আরোপের বিষয়েও ট্রাম্প প্রশাসন ভাবছে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড বা জামানত চালুর প্রস্তাবও রয়েছে, যা নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তবে ওপিটির নতুন ফি এখনো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রয়েছে। হোয়াইট হাউস চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে কি না, কিংবা এই অর্থ শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় নাকি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, কারা বহন করবে, সে বিষয়েও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে চলতি মাসেই ট্রাম্প প্রশাসন আরেকটি নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে। এতে ওপিটি সুবিধা পেতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে। আগে স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পড়াশোনা শেষের পর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকত।

ডিএইচএস বর্তমানে ওপিটি কর্মসূচির নিয়মাবলি নতুন করে প্রণয়নের কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চলতি বছরের শরৎকালেই এ বিষয়ে নতুন প্রবিধান প্রকাশ করা হতে পারে।

অভিবাসনপন্থীরা বলছেন, ওপিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা বেছে নেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এই সুযোগ সীমিত হলে অনেক শিক্ষার্থী ডিগ্রি শেষ করেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হবেন এবং তাদের অর্জিত দক্ষতার সুফল অন্য দেশ ভোগ করবে।

অন্যদিকে, অভিবাসনবিরোধীদের দাবি, ওপিটি কর্মসূচি কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি গ্র্যাজুয়েট নিয়োগের সুযোগ করে দেয়, ফলে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও স্টিফেন মিলারসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক ‘স্টেম ওপিটি’ কর্মসূচি বাতিলের পক্ষে ছিলেন। তবে প্রশাসনের ব্যবসাবান্ধব অংশ, বিশেষ করে জ্যারেড কুশনারের বিরোধিতার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *