মেহেরপুরের ইছাখালী সীমান্তে এক বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর পাল্টা দুই ভারতীয় কৃষককে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তিনজনকেই নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী সীমান্ত পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশি কৃষকের নাম আবদুল মান্নান (৭০)। তিনি ইছাখালী মসজিদপাড়ার প্রয়াত নূর বক্সের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইছাখালী সীমান্তের প্রায় দেড় বিঘা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে আসছিলেন আবদুল মান্নান। সকালে ওই জমিতে কীটনাশক ছিটাতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যান।
খবরটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় লোকজন। একপর্যায়ে সীমান্ত এলাকায় থাকা দুই ভারতীয় কৃষককে তারা আটক করে নিয়ে আসেন। তাদের নাম সচিন কর্মকার ও নারায়ণ দেব।
আবদুল মান্নানের নাতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, তার দাদাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিএসএফের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে ফেরত না দেওয়ায় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে দুই ভারতীয় কৃষককে ধরে নিয়ে আসেন।
পরে দুপুর দুইটার দিকে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আবদুল মান্নানকে বাংলাদেশের কাছে এবং আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ আবদুল মান্নানকে ফেরত দিয়েছে। একইভাবে এলাকাবাসীর আটক করা দুই ভারতীয় নাগরিককেও ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে একই দিনে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সীমান্তে আরও এক বাংলাদেশি তরুণকে আটক করেছে বিএসএফ। তার নাম আজিবর রহমান (২৩)। তিনি উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাজিয়ার চর এলাকার নুরুল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে কয়েকজন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তারা বিএসএফ সদস্যদের সামনে পড়ে যান। অন্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারলেও আজিবর রহমান বিএসএফের হাতে আটক হন।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাজিয়ার চরের দোনালার মাথা এলাকায়।
কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক বলেন, একজন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে বিএসএফ তাকে আটক করেছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
একই দিনে মেহেরপুর ও কুড়িগ্রাম সীমান্তের এই দুই ঘটনায় সীমান্তে চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে মেহেরপুরের ঘটনায় দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষের আটক ব্যক্তিদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।








