মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

৫০ লাখ টাকা চাঁদার দাবি, এক ঘণ্টার আলটিমেটামের পর প্রবাসী ব্যবসায়ীর ভবনের গেটে গুলি

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে ৫০ লাখ টাকা চাঁদার দাবির পর এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর পরিবারের ওপর হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হুমকির কয়েক ঘণ্টা পর রাতে তাদের বাসভবনের গেট লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাত ১১টার দিকে হামজারবাগ এলাকায় রুনা টাওয়ার নামে ১১ তলা একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভবনটির মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ। তার দুই ছেলে প্রবাসে ব্যবসা করেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে।

ঘটনার আগে সোমবার দুপুরে ইউসুফের ছেলে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস বার্তা আসে বলে জানান ইউসুফ। ওই বার্তায় তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার দাবি করা হয়।

ইউসুফের ভাষ্য অনুযায়ী, বার্তায় বলা হয়, তার ছেলেমেয়েরা কোথায় থাকেন, কী করেন এবং তাদের কোথায় কোথায় বাড়ি রয়েছে, এসব তথ্য তাদের জানা। এরপর ‘বড় ভাইয়ের’ নির্দেশ অনুযায়ী এক ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই রাতে রুনা টাওয়ারের সামনে আসে দুই যুবক।

ভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো. আলমগীর বলেন, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। হঠাৎ প্যান্ট-শার্ট পরা দুই যুবক এসে তাকে গেটের ভেতরে রেখে দরজা বন্ধ করে দিতে বলেন। এরপর তারা ভবনের গেট লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছোড়েন। পরে হেঁটে সেখান থেকে চলে যান তারা।

গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশও সেখানে যায়।

ভবনের পাশের এক দোকানদার বলেন, তিনি দোকানের ভেতরে থাকার সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে বাইরে তাকিয়ে দুই যুবককে দৌড়ে চলে যেতে দেখেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় ভবনটির নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, হামজারবাগে চাঁদার টাকা না পেয়ে একটি ভবনের গেট লক্ষ্য করে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। কারা এতে জড়িত, তা শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি।

চট্টগ্ররে সাম্প্রতিক চাঁদাবাজির কয়েকটি ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনারও মিল খুঁজে পাচ্ছেন স্থানীয়রা।

এর আগে, গত ১৩ জুলাই দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকায় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগও ওঠে।

এর আগে, ১৩ জুন নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবিতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

দুটি ঘটনার পর চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইমন চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন, এমন অভিযোগ রয়েছে। পরে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি ১০ দিনের রিমান্ডে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

এদিকে রুনা টাওয়ারে গুলি ও এর আগে পাঠানো হুমকির ঘটনায় পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *