বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

দুদকে অভিযোগের দায়িত্ব দিয়েই, পরে সাময়িক বরখাস্ত ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাকে

ইসলামী ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) যোগাযোগের দায়িত্ব পাওয়ার পরই ব্যাংকটির এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী নামের ওই কর্মকর্তা সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম (এস আলম) ও সংশ্লিষ্ট আরও ৩৫ জনসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুদকে আবেদন করেছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়াসীন আলীকে পরে ব্যাংকের ট্রেনিং একাডেমিতে সংযুক্ত করা হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, শাখা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা কেন সরাসরি দুদকে অভিযোগ করেছেন, তা খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তবে ব্যাংকের নথিপত্রে ইয়াসীন আলীর দুদকে যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের পর তাকে একটি নির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরদিন, ২৭ জুলাই, শাখা ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে তাকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, শাখা পর্যায় থেকে দুদকে অভিযোগ করার নিয়ম নেই। ঋণসংক্রান্ত কোনো অনিয়ম হলে সাধারণত আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিধান রয়েছে। আদালত প্রয়োজন মনে করলে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে পাঠাতে পারেন। এ ছাড়া দুদকের সঙ্গে ব্যাংকের যোগাযোগের জন্য পৃথক বিভাগ রয়েছে।

তার ভাষ্য, ইয়াসীন আলী কেন শাখা থেকে সরাসরি দুদকে অভিযোগ দিয়েছেন, সেটি স্পষ্ট নয়। এ কারণেই বিভাগীয় তদন্তের জন্য তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংক নিয়ম অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

ব্যাংকের নথি বলছে, সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি সোয়েটার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ করার জন্যই ইয়াসীন আলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, এস আলমসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের আবেদন করেন।

ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্পৃক্ততা ছিল পরিচালক হিসেবে। জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ২০১৭ সালে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হন এবং পরে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৩ সালে নিয়ম অনুযায়ী পরিচালকের পদ ছাড়েন। ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৮ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *