শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল, ভোট হলে জয়ের পথে বড় ব্যবধান

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিবের পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন। বিকেল ৪টার মধ্যে তার পক্ষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম আসার পর ভোটের সমীকরণও অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে গেছে। জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ভোট অনুষ্ঠিত হলে তার জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে
বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন। পাঁচ বছর পর, ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন।

খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থানের সময়ে কার্যত দলের সামনের সারির নেতৃত্বে ছিলেন মির্জা ফখরুল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছয়বার কারাগারে যান। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নানা চাপের মধ্যেও দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব ধরে রাখায় বিএনপিতে তার অবস্থান আরও শক্ত হয়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে মির্জা ফখরুলকে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের সম্ভাবনা ৩৫ বছর পর
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে এবার আরেকটি কারণে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এর আগে, ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বিরোধী দলগুলোও রাষ্ট্রপতি পদে আলাদা প্রার্থী দেয়নি।

এবার অবশ্য সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করা হয়েছে। আজ সকাল ১১টার দিকে তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। এরপর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর যদি একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকেন, তাহলে আগামী ২০ আগস্ট সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে।

সংসদের সংখ্যার হিসাবে এগিয়ে বিএনপি
বর্তমান সংসদে বিএনপির আসনসংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি। বিপরীতে জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারী আসনসহ ৯০।

ফলে অলি আহমদ শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও সংসদীয় ভোটের হিসাবে মির্জা ফখরুলই স্পষ্টভাবে এগিয়ে। ১৮ আগস্টের মধ্যে অন্য কোনো প্রার্থী সরে দাঁড়ালে ভোটের প্রয়োজনও হবে না।

তবে অলি আহমদ প্রার্থিতা বহাল রাখলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে প্রায় সাড়ে তিন দশক পর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটের মুখোমুখি হবে দুই প্রার্থীর লড়াই। বিএনপির সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সেই ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় পাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *