শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

‘সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবাই নিজেদের বাংলাদেশি মনে করি’

দেশের নাগরিকদের মধ্যে ধর্ম, বর্ণ, দল বা মতের বিভেদ যেন সামাজিক অস্থিরতার কারণ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি মহল নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে উসকে দেওয়ারও চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, দেশের কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিদ্বেষ যাতে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সহাবস্থানই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। দেশের ভেতরে কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে দেখা হলেও বিদেশে গেলে একই পরিচয় আর থাকে না। ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় গেলে এই পরিচয়ের বিভাজন থাকে না; সবাই বাংলাদেশি হিসেবেই পরিচিত হন।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু পরিচয়কে মুখ্য না করে সবাইকে নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ বা অন্য কোনো পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বৈষম্য তৈরি করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু, এবার পুনর্গঠনের পালা
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। এখন ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করে দেশ পুনর্গঠনের পালা।

তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এই লক্ষ্য সামনে রেখে বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘রাষ্ট্র দেবে সহায়তা, নাগরিক পালন করবে দায়িত্ব’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণের পার্থক্য না করে নাগরিকের প্রয়োজন অনুযায়ী রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করবে। একই সঙ্গে নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্র, সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, আস্থা এবং সংলাপের মাধ্যমেই সবার প্রত্যাশিত কল্যাণরাষ্ট্র বা ‘কল্যাণ বাংলাদেশ’ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কেউ যাতে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দেশ সবার।

ধর্মীয় স্বাধীনতা সাংবিধানিক অধিকার
তারেক রহমান বলেন, নাগরিক হিসেবে দেশে সবার অধিকার সমান। প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে এবং এটি সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ও বিএনপি বিশ্বাস করে,‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এবং ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে দেশের স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *