বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, ভোটাধিকারসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রবাসীদের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ দেশে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন।
সাক্ষাতের শুরুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
প্রবাসী কার্ড চালুর কথা জানালেন রাষ্ট্রপতি
সাক্ষাতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিমানবন্দরে হয়রানি, ভোটদানের অধিকার এবং ব্যবসা ও নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চান।
জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং নাগরিক সুবিধা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রবাসীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দেশে বিনিয়োগের আহ্বান
রাষ্ট্রপতি প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও বাংলাদেশে নিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি এসব খাতে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রবাসীদের অবদান স্মরণ
দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা অর্থ, শ্রম ও মেধা দিয়ে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসীসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশিদের এই ভূমিকার কথা দেশ ও জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পর্ক আরও কার্যকর করা, তাদের নাগরিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।








