রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিকের ‘ঠিকানা’ এবার ডিজিটাল নজরদারিতে

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের আবাসনের তথ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে ফোমেমা। এখন থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিবন্ধনের আগে প্রত্যেক বিদেশি কর্মীর বর্তমান ও যাচাইকৃত আবাসিক ঠিকানা ফোমেমার সিস্টেমে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন নিয়মটি কার্যকর হওয়ার কথা।

এর ফলে শুধু বিদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে আছেন কি না, সেটিই নয়, তিনি বাস্তবে কোথায় বসবাস করছেন, সেই তথ্যও নিয়োগকর্তাকে নিশ্চিত করতে হবে। ঠিকানা পুরোনো বা ভুল থাকলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিবন্ধনও আটকে যাবে।

ঠিকানা বদলালেই আগে তথ্য সংশোধন
ফোমেমার ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রত্যেক বিদেশি কর্মীর আবাসনের ঠিকানা সিস্টেমে যাচাই করে দিতে হবে। কোনো কর্মী আগের বাসস্থান ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলে নতুন ঠিকানা আগে হালনাগাদ করতে হবে। এরপরই স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যাবে।

অর্থাৎ কাগজপত্রে একটি ঠিকানা দেখিয়ে দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ আর থাকছে না। কর্মী যে ঠিকানায় বাস্তবে থাকছেন, সেটিই সিস্টেমে থাকতে হবে।

ফোমেমার এই উদ্যোগের পেছনে মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি কর্মীদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষে তাদের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো।

কেন ঠিকানাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের জটিলতা রয়েছে। অনেক শ্রমিক নিয়োগকর্তার নির্ধারিত আবাসনে না থেকে অন্যত্র বসবাস করেন। কেউ চাকরি বা কর্মস্থল পরিবর্তন করেন, আবার কেউ সাবকন্ট্রাক্টরের অধীনে কাজ করেন।

অভিযানের সময় এমন ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট থাকা শ্রমিককে অনুমোদিত নিয়োগকর্তার পরিবর্তে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে দেখা গেছে। ফলে সরকারি নথিতে থাকা কর্মীর ঠিকানা ও কর্মস্থলের সঙ্গে বাস্তব অবস্থানের পার্থক্য তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।

নতুন ব্যবস্থায় সেই জায়গাটিই শক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। একজন বিদেশি কর্মী কোথায় থাকছেন, সেই তথ্যের দায় এখন আরও স্পষ্টভাবে নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্যানেল এজেন্সির ওপর বর্তাবে।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিবন্ধনেও পড়বে সরাসরি প্রভাব
মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ করা প্রতিষ্ঠান ফোমেমা বিদেশি কর্মীদের বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনা করে। দেশটিতে প্রবেশের পর বিদেশি কর্মীদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফোমেমায় নিবন্ধন করতে হয়। এরপর অনুমোদিত প্যানেল ক্লিনিকে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হয়ে যাচ্ছে আবাসনের ঠিকানা যাচাই।

অর্থাৎ নতুন কোনো কর্মীর ঠিকানা সিস্টেমে নিশ্চিত করা না থাকলে কিংবা পুরোনো ঠিকানা হালনাগাদ না করা হলে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে না। ফলে কর্মীর বাসস্থান পরিবর্তনের তথ্য গোপন রাখা বা পুরোনো ঠিকানা ব্যবহার করার সুযোগও আগের তুলনায় কমে আসবে।

বাংলাদেশিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত। তাদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়মটি সরাসরি প্রযোজ্য হবে। কোনো বাংলাদেশি কর্মীর আবাসন পরিবর্তন হলে নিয়োগকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে দ্রুত নতুন ঠিকানা সিস্টেমে যুক্ত করতে হবে।

এতে একদিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় নতুন একটি যাচাই যুক্ত হলো, অন্যদিকে বিদেশি শ্রমিকদের অবস্থানসংক্রান্ত একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল তথ্যভান্ডারও আরও নির্ভুল হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।

ফোমেমার নতুন নির্দেশনার মূল বার্তাটি তাই শুধু স্বাস্থ্য পরীক্ষা নয়, মালয়েশিয়ায় একজন বিদেশি শ্রমিক কোথায় আছেন, সেই তথ্যটিও এখন নিয়মিত ও যাচাই করা অবস্থায় রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *