মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

দেশে ফেরার স্বপ্ন ছিল, মালয়েশিয়ায় সড়কে থেমে গেল প্রবাসী ইমরানের জীবন

দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ইমরান হোসেন উজ্জ্বল সিকদার। পরিবারকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার সেই পরিকল্পনা পূরণ হওয়ার আগেই মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৭ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি তরুণের। একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তার এক সহকর্মীও।

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে পেরাকের ইপোহ শহরের আয়ার তাওয়ার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার জানিয়েছে, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন ইমরান ও তার সহকর্মী। নির্ধারিত গন্তব্যে ওষুধ পৌঁছে দিতে যাওয়ার সময় তাদের মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

নিহত ইমরানের বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গাট্টি ইউনিয়নের কাঠিয়ার গাট্টি গ্রামে। তিনি কৃষক কালাম সিকদারের চার সন্তানের মধ্যে সবার বড়। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনা বেশি দূর এগোয়নি তার। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০১৭ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি।

প্রবাসজীবনের প্রায় সাত বছর পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ফেরেন ইমরান। দেশে ফেরার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, ১০ অক্টোবর বিয়ে করেন। তবে সংসার শুরুর তিন মাসের মাথায় আবারও মালয়েশিয়ায় ফিরে যেতে হয় তাকে। এবার লক্ষ্য ছিল কিছুদিন কাজ করে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসা।

ইমরানের প্রতিবেশী ও সহপ্রবাসী আব্দুর রাজ্জাক জানান, পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার পর থেকেই নিয়মিত দেশে টাকা পাঠাতেন ইমরান। প্রতিদিনই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন এবং দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনার কথা জানাতেন। তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করত পরিবারের বড় একটি অংশ। এদিকে তার বাবা কৃষিকাজের পাশাপাশি নার্সারির ব্যবসাও শুরু করেছিলেন।

রাজ্জাকের ভাষায়, ইমরান প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন এবং দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস করার ইচ্ছার কথা জানাতেন। সেই ফেরার অপেক্ষাতেই ছিল পরিবার। কিন্তু দেশে ফেরার বদলে এবার ফিরবে তার নিথর দেহ।

দুর্ঘটনায় নিহত অপর বাংলাদেশির বাড়ি কুষ্টিয়ায় বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইমরানের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর তার গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবার এখন অপেক্ষা করছে মরদেহ দেশে ফেরার। সালথার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দাবির উদ্দিন জানিয়েছেন, ইমরানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, সেখান থেকেও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *