সিঙ্গাপুর থেকে দীর্ঘদিনের উপার্জনের টাকা দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন মাছের প্রজেক্ট। জমিসংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠছিল। এর মধ্যেই প্রজেক্টে ঢুকে সীমানাপ্রাচীর ও তারকাঁটার বেড়া ভাঙচুর এবং কলাগাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর কয়েক ঘণ্টা পর পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ করেন রাজবাড়ীর পাংশার এক প্রবাসী।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের নিভাকেষ্টপুর গ্রামের ওই পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মো. আসাদ মন্ডল। তার দাবি, বিষের প্রভাবে পুকুরের প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা মূল্যের মাছ মারা গেছে।
এ ঘটনায় আসাদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সকালে ভাঙচুর, রাতে পুকুরে বিষ
আসাদ মন্ডলের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে বহিরাগত কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তার মাছের প্রজেক্টে প্রবেশ করা হয়। এ সময় সীমানাপ্রাচীর ও তারকাঁটার বেড়া ভাঙচুরের পাশাপাশি পুকুরপাড়ের প্রায় ৫০টি কলাগাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় তাকে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন আসাদ। পরে রাতের কোনো একসময় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে তার দাবি।
আসাদ বলেন, প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বছর সিঙ্গাপুরে শ্রম দিয়ে উপার্জন করা অর্থ দিয়ে এলাকায় মাছের প্রজেক্টটি গড়ে তুলেছেন তিনি। সম্প্রতি যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডল তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তার।
‘চাঁদা না দেওয়ায় মাছ মেরে ফেলার হুমকি’
আসাদের বাবা মোহাম্মদ আলী মন্ডলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কালাম মন্ডল তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। তার দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন। মঙ্গলবারও তাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় মাছ মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
আসাদের চাচাতো ভাই রফিক মন্ডলও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডল লোকজন নিয়ে অস্ত্রসহ মাছের প্রজেক্টে ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে বাড়িতে গিয়েও হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন সকালে পুকুরে মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখা যায় বলে জানান তিনি।
তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
পাংশা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার ঘোষ বলেন, পুকুরের চারপাশের তারকাঁটার বেড়া ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। একই দিন রাতে ওই পুকুরের মাছও নিধন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কালাম মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।








