মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় আসছে পরিবর্তন, ৫২ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে ভিসা প্রতারণা ও অনিয়ম বন্ধে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫২টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় সিলগালাও করা হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক বিদেশে পাঠানোর প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রমিক পাঠানোর কাজ না হলেও অনেক ট্রাভেল এজেন্সি এ কাজে যুক্ত রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেল ও পাঁচ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল সুবিধাসহ শ্রমকল্যাণ কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

৫২ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, অনিয়মের শিকড় কোথায়?
ভিসা প্রতারণা ঠেকাতে ৫২টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় সিলগালা করার তথ্য দিয়েছেন মন্ত্রী। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তবে এই পদক্ষেপের পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসছে। যেসব এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ ছিল, কতজন কর্মী প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা প্রতিকার পেয়েছেন কি না, তা মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়নি।

একইভাবে, লাইসেন্স বাতিল ও কার্যালয় সিলগালা করার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্যও প্রয়োজনীয় তথ্য দরকার। এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া প্রতারণা বন্ধে নেওয়া ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা কঠিন।

মন্ত্রী এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে সচেতনতার পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, এজেন্সির জবাবদিহি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর অভিযোগ
বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় আরেকটি সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রিক্রুটিং এজেন্সির পাশাপাশি অনেক ট্রাভেল এজেন্সিও শ্রমিক বিদেশে পাঠানোর কাজ করছে। অথচ এটি ট্রাভেল এজেন্সির কাজ নয়।

এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত হচ্ছে এবং তাদের কার্যক্রম কীভাবে তদারক করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

কোন কোন ট্রাভেল এজেন্সি এ কাজে যুক্ত, তারা কীভাবে কর্মী সংগ্রহ করছে এবং এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে ভিসা প্রতারণার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে মন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অনলাইন ব্যবস্থা কি কমাবে প্রতারণা?
বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াকে অনলাইন পদ্ধতির আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তার আশা, আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার তথ্য সংরক্ষণ, আবেদন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ সহজ হতে পারে। তবে শুধু অনলাইন ব্যবস্থা চালু করলেই প্রতারণা বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তথ্য যাচাই, নিয়মিত নজরদারি, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোন কোন ধাপ অনলাইনে আনা হবে, কবে নাগাদ তা কার্যকর হবে এবং অনিয়ম শনাক্ত হলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা জানা গেলে উদ্যোগটির বাস্তব অগ্রগতি মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

সৌদি আরবে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে তৎপরতা
এদিকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পর সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। প্রবাসীদের সতর্ক থাকতে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সমস্যায় সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে হামলার ঘটনায় কতজন বাংলাদেশি প্রবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না এবং বর্তমানে তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কী, সে বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবারের পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *