বৈধ পথে বিদেশ গমন, মানব পাচার প্রতিরোধ ও বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনর্বাসন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এবং অভিবাসনবিষয়ক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম প্রবাস কথা। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি এবং নিরাপদ অভিবাসনের উপায় তুলে ধরা হবে।
সেই লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সাক্ষর হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের আওতায় এই সমঝোতা সম্পন্ন হয়। ব্র্যাকের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান এবং প্রবাস কথার পক্ষে প্রকাশক ও সম্পাদক মুনজুরুল করিম সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এই অংশীদারত্বের আওতায় অনিয়মিত অভিবাসনের বিপদ, মানব পাচার প্রতিরোধ, বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া এবং বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে তথ্যভিত্তিক প্রচার চালানো হবে।
পাশাপাশি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন, ভিডিও তথ্যচিত্র ও প্রবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা প্রতিরোধে।
এ ক্ষেত্রে তরুণ জনগোষ্ঠী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সচেতনতামূলক কনটেন্ট প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশ যেতে আগ্রহীদের কাছে দালালচক্রের প্রতারণা, অনিরাপদ যাত্রার পরিণতি এবং বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন,
‘দালালদের প্রলোভনে পড়ে অনেকে ভূমধ্যসাগর ও বঙ্গোপসাগরের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করছেন। এতে অনেকে সর্বস্ব হারানোর পাশাপাশি প্রাণও হারাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ডায়াসপোরার কাছে নিরাপদ অভিবাসনসংক্রান্ত সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রবাস কথার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগটি বিদেশ গমনেচ্ছুদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে এবং মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
প্রবাস কথার প্রকাশক ও সম্পাদক মুনজুরুল করিম বলেন-
‘প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের কাছে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পৌঁছে দেওয়া সংবাদমাধ্যমটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে অভিবাসনপ্রত্যাশী তরুণদের অনিয়মিত পথে বিদেশ যাওয়ার বাস্তব ঝুঁকি এবং বৈধ অভিবাসনের সুবিধা সম্পর্কে জানানো সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করলে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

বাংলাদেশি অভিবাসী ও প্রবাসীদের নিয়ে বাংলা ভাষায় পরিচালিত অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ও নেটওয়ার্ক প্রবাস কথা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে সংবাদ ও তথ্য প্রকাশ করে আসছে। অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ও প্রবাস কথার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি দেশে ফিরে আসা অভিবাসীদের পুনরেকত্রীকরণে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে।








