সৌদি আরবের বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অচলাবস্থায় ব্যাহত হয়েছে ৮৬টি ফ্লাইট। এর মধ্যে ৩৬টি সরাসরি সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্ত, বাকি ৫০টি বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট ফ্লাইট। সব মিলিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৩ হাজার ৪৯০ জন যাত্রী। ফ্লাইটের হিসাব বলছে, শুধু বাংলাদেশ-সৌদি আরব রুট নয়, আন্তর্জাতিক ট্রানজিট যোগাযোগেও এর প্রভাব পড়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এভিয়েশন সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্টের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব এক বার্তায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি সৌদি আরবের সঙ্গে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। সংস্থাটির ১৪টি ফ্লাইটের কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৫টি ফ্লাইটও এর আওতায় রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের হিসাব আরও বড় প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স। সংস্থাটির ২২টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৬টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, সালাম এয়ারের ৪টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
দুটি শ্রেণির ফ্লাইটের হিসাব একত্র করলে দেখা যায়, মোট ব্যাহত ফ্লাইটের প্রায় ৪২ শতাংশ সরাসরি সৌদি আরবের সঙ্গে চলাচলকারী। বাকি প্রায় ৫৮ শতাংশ ট্রানজিট ফ্লাইট। অর্থাৎ, প্রভাব কেবল সৌদি আরবগামী বা সেখান থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; দেশটিকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক যাত্রীরাও এর আওতায় পড়েছেন।
তবে এই ৮৬টি ফ্লাইটের কতটি পুরোপুরি বাতিল হয়েছে, কতটি বিলম্বিত হয়েছে এবং কতটি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত নেই। একইভাবে, ১৩ হাজার ৪৯০ জন যাত্রীর মধ্যে কতজন বাংলাদেশি এবং তাদের কতজন দেশে ফিরতে বা সৌদি আরবে যেতে পারেননি, তা-ও স্পষ্ট নয়।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার সঙ্গে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর অচলাবস্থার সম্পর্ক, ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্নের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে ফ্লাইট বিপর্যয়ের প্রকৃত মাত্রা ও যাত্রীদের ওপর এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।








