রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

সবশেষ

পাঁচ মাস ধরে ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে রেমিট্যান্স, অক্টোবরে এলো ২৮৭ কোটি ডলার

দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ তিন বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারছে না টানা পাঁচ মাস ধরে। সদ্যবিদায়ী অক্টোবর মাসেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৮৭ কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে) ৩৫ হাজার ৩৪৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরে দেশে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ আগের মাস সেপ্টেম্বরের তুলনায় বেশি। ওই মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১০ কোটি ৭৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও চলতি অক্টোবরে প্রায় ১০ কোটি ৭৬ লাখ ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

তবে মাসভিত্তিক হিসাবে প্রবৃদ্ধি থাকলেও তিন বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেনি প্রবাসী আয়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাস জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিটি মাসেই রেমিট্যান্স এসেছে তিন বিলিয়ন ডলারের কম। এর আগে গত পাঁচ মাস ধরেও একই পরিস্থিতি ছিল। যদিও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস দেশে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল।

কোন ব্যাংকের মাধ্যমে কত রেমিট্যান্স
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। এসব ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে এসেছে ২১২ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫০ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে এসেছে ২৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৯ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এদিকে, অক্টোবরে আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক রয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে আইসি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক। আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

অর্থবছরের শুরুতে রেমিট্যান্সের চিত্র
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। পরের মাস আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারে। এরপর সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার ডলার। অক্টোবরেও তিন বিলিয়ন ডলারের ঘর পূরণ হয়নি।

এর আগে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরজুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন মোট ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। তার আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *