রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর এবার মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও গণপরিবহন ব্যবস্থায়ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
এর আগে, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ওই স্টেশন ব্যবহার করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। বেলা ১১টার কিছু আগে ঘটনাস্থলে থাকা এক যাত্রী জানান, স্টেশনের গেট বন্ধ থাকায় তিনি সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে কাজীপাড়া স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে ওঠেন।
মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, রোববার সকালে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা এসে মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে জড়ো হন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পাঠানো হয়।
এক দিনের ব্যবধানে বাড়ছে উত্তেজনা
শ্রমিকদের এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি। একই দাবিতে শনিবারও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে শ্রমিকদের একটি অংশ মিরপুর-১ নম্বরের শাহ আলী এলাকায় অবস্থান নেন।
সেখানে কয়েকটি মার্কেট ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের হাতাহাতি, সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। একই দিন কালশী এলাকায় একটি পোশাক কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন শ্রমিকেরা।
মেট্রোরেল এলাকায়ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি
মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্রগুলোতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে মেট্রো স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ রাখার ঘটনাও এরই মধ্যে ঘটেছে।
অন্যদিকে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনের নিচে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া শ্রমিক আন্দোলন মিরপুরের একাধিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।








