বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

যৌন হয়রানি ও পারিবারিক সহিংসতা রোধে কঠোর অধ্যাদেশ: নীতিগত অনুমোদন দিল অন্তর্বর্তী সরকার

কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারে নারী-শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ’ এবং ‘পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ’ সহ মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬
এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো যৌন হয়রানির একটি আধুনিক ও বিস্তৃত সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংজ্ঞার বিস্তার: শারীরিক ও মৌখিক আচরণের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যম (ই-মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া) এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ইঙ্গিতপূর্ণ বা জেন্ডারভিত্তিক যেকোনো অপমানজনক আচরণকে এই অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি: প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের জন্য ‘অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি’ গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
স্থানীয় অভিযোগ কমিটি: অসংগঠিত খাতের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিসি ও ইউএনও’র মাধ্যমে কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
সুরক্ষা ও গোপনীয়তা: ভুক্তভোগীর মর্যাদা রক্ষায় ‘সার্ভাইভারকেন্দ্রিক পদ্ধতি’ গ্রহণ করা হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে যাতে প্রকৃত বিচার বাধাগ্রস্ত না হয়।
পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬
পারিবারিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৭টি অধ্যায় ও ৩৩টি ধারার সমন্বয়ে এই খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে।
সহিংসতার ধরন: শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি যৌন ও আর্থিক নির্যাতনকেও পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
আইনি অধিকার: ভুক্তভোগীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা, মানসিক কাউন্সেলিং এবং আইনি সহায়তার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
আদালতের বিশেষ আদেশ: আদালত চাইলে অভিযোগের ভিত্তিতে নির্যাতনকারীর সাথে যোগাযোগ সীমিত করতে ‘অস্থায়ী সুরক্ষা আদেশ’ জারি করতে পারবে।
দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া: অভিযোগ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত শুরু এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অনুমোদিত অন্যান্য অধ্যাদেশসমূহ:
যৌন হয়রানি ও পারিবারিক সহিংসতা ছাড়াও বৈঠকে আরও চারটি অধ্যাদেশ অনুমোদন পেয়েছে । জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৬ । বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬ , নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ- ২০২৬ । কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ- ২০২৬
সরকারি সিদ্ধান্ত: এসব অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *